সন্তান বিক্রির পর অনুশোচনা ৯৯৯-এ কল করে উদ্ধার

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৩৮ এএম

‘আমি একটা ভুল কইরা ফালাইছি। তিন দিন আগে আমার এক মাইয়া সন্তান জন্ম নেয়। আমার স্বামী নাই। তারে মানুষ করতে পারমুনা ভাইব্বা (ভেবে) পঞ্চাশ হাজার টাকায় বেইচা দিছি। আগের ঘরের ছয় বছর বয়সী আরেকটা মাইয়া আছে। প্রথম ঘরের মাইয়ারে মাইনা নেয় না দেইখা দ্বিতীয় স্বামীর লগে তিন মাস আগে ছাড়াছাড়ি হইয়া গেছে। মাইয়া বিক্রির টাকা এহনো ছুঁইয়া দেখি নাই। ওই টাকা ফিরাইয়া দিয়া আমার মাইয়ারে আমি ফেরত চাই। দয়া কইরা উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। আমার মা-বাপ কোনো আত্মীয় নাই। আমি এতিম।’ জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল করে এক মা তার বিক্রি করে দেওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে এভাবেই আকুতি জানান।

পরে পুলিশ তিন দিন বয়সী সন্তানকে উদ্ধার করে ওই মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে এসব তথ্য জানান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিদর্শক (মিডিয়া) আনোয়ার সাত্তার।

তিনি আরও জানান, গত শনিবার দুপুরে এক মায়ের এমন বেদনার্ত আবেদন পায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কর্তব্যরতরা। সন্তান ফেরতের আশায় তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে পুলিশের কাছে কলটি করেছিলেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নবজাতক সন্তান বিক্রি করে অনুশোচনায় ভোগা মায়ের কলটি রিসিভ করেছিলেন ৯৯৯-এর কনস্টেবল আনোয়ার। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় বিষয়টি অবহিত করে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে বলেন। ৯৯৯- এর ডেসপাচার এসআই ইমদাদুল হক অনুশোচনায় ভোগা মাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশি তৎপরতার অগ্রগতির খোঁজখবর নিতে থাকেন। পরে কোনাবাড়ী থানা-পুলিশের একটি দল ওই মা যার মাধ্যমে সন্তান বিক্রি করেছিলেন তার প্রতিবেশী একজন সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে নবজাতক ক্রেতার ঠিকানা সংগ্রহ করে। পরে গাজীপুরের নামাপাড়া থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়। আর এই উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোনাবাড়ী থানা-পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত