আগামী ১৫ থেকে ১৭ মার্চ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত দিন। এবারের নির্বাচনের আগ দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম বড় সমালোচক হিসেবে পরিচিত অ্যালেক্সি নাভালনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ক্রেমলিন এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা বলছে। এসবের মধ্যে পুতিন আরও এক দফায় নিজের ক্ষমতা পোক্ত করতে যাবতীয় পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। বিশ্ব গণমাধ্যমের ঘোষণা, পুতিনের নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়াটাই শুধু বাকি।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেন। দুই বছর পার হওয়ার পরও চলছে সেই লড়াই। য্ক্তুরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে পরাস্ত করতে ইউক্রেনকে শুরু থেকে সমর্থন ও অর্থায়ন করে যাচ্ছে। তবে রুশ বাহিনী যেমন যুদ্ধে জিততেও পারেনি; আবার ইউক্রেনও রুশ বাহিনীকে হটিয়েও দিতে পারেনি। এ অবস্থায় পুতিন আরও একবার জয়লাভের অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে সমস্যার মুখে পড়ছে।
বলা হচ্ছে, ১৫ থেকে ১৭ মার্চের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতা ধরে রাখার আয়োজন করেছেন পুতিন। নির্বাচনের আয়োজনকে লোক দেখানো বলছেন বিশ্লেষকরা। পুতিনের বাইরে এই নির্বাচনে আরও তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তারা ক্রেমলিনের অনুগত। এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন বরিস নাদেজদিন যিনি পুতিনের আরও একজন সমালোচক।
ইউনাইটেড পার্টির নেতা পুতিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নিকোলাই খারিতোনোভ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব রাশিয়ার (এলডিপিআর) নেতা লিয়োনিদ স্ল্যাটস্কি এবং আরেকজন নিউ পিপল পার্টির নেতা ভ্লাদিস্ল্যাভ দাভানকোভ। রাশিয়ার আইনসভার নিম্নকক্ষ স্টে দুমায় খুব স্বল্পসংখ্যক আসনে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এসব দলের। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি মস্কোর ক্ষমতাকেন্দ্রের ওপর নিজের ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ অটুট রাখা পুতিনের বিরুদ্ধে এসব নেতা মূলত একটি কাঠামোগত বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন যেখানে ক্রেমলিনের বর্তমানের শাসকের বিরুদ্ধে একটি সাজানো মঞ্চের অভিনেতা তারা।
