নতুন আতঙ্ক ইন্টারনেট বিপর্যয়

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪, ১০:৫২ পিএম

এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বাণিজ্যে এডেন সাগর-লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল রুট ব্যাপক গুরুত্ববাহী। ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে চলতি যুদ্ধে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীদের আবির্ভাব এই পথের বাণিজ্যকে হুমকিতে ফেলেছে। কিন্তু এখন আন্তঃমহাদেশীয় ইন্টারনেট পরিষেবাও হুমকির মুখে পড়ছে যা নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে জানায়, বেলিজের পতাকাবাহী লেবানন কর্তৃক পরিচালিত সারবাহী জাহাজডুবির কারণে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট সংযোগ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এমভি রুবিমার নামের জাহাজটি আক্রান্ত হওয়ার পর ক্রুরা নোঙর ফেলে জাহাজ ছাড়তে বাধ্য হন। 

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, জাহাজের নোঙর সমুদ্রতলের ইন্টারনেট সংযোগকারী তারকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ^ব্যাপী ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশন পরিষেবার জন্য এই তার গুরুত্বপূর্ণ। গাজায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ন্যক্কারজনক হামলার মধ্যে হামাসের পক্ষ নিয়ে লড়াই শুরু করে ইয়েমেনের শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের কোণঠাসা করতে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালালেও লোহিত সাগরপথের বাণিজ্য এখনো সুরক্ষিত হয়নি। এমভি রুবিমার ডোবার ফলে পরিবেশগত বিপর্যয় তো হয়েছেই, এটি ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। ভবিষ্যতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইন্টারনেটের আরও বড় বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের ১৬টি তার চলে গেছে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে। এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে ইন্টারনেট পরিষেবা। রুবিমারডুবির ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে গণমাধ্যমগুলো বলছে, এশিয়া ও ইউরোপের ইন্টারনেট পরিষেবা এক-চতুর্থাংশ হ্রাস করে ওই বিপর্যয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-ভিত্তিক টেলিকম গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির ভাইস প্রেসিডেন্ট টিম স্ট্রঞ্জ বলেন, হুতি আক্রমণ বর্তমানের সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর নতুন কেবল সংযোগের জন্য নিষিদ্ধ হবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে লোহিত সাগরের কেবলগুলোর বিপর্যয় আরও জটিল আকার ধারণ করছে। এ নিয়ে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন-ভিত্তিক সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘জেনেটা’-এর প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ড বলেন, ‘কোনো এলাকায় যুদ্ধের মধ্যে সত্যিকার সমস্যা হয়ে ওঠে দুর্ঘটনার পরপরই মেরামত করা যায় না যা অন্য (যুদ্ধমুক্ত) এলাকায় সম্ভব হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত