গৃহযুদ্ধ থেকে জলদস্যুতা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৪, ১২:৫২ এএম

হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ সোমালিয়া নব্বইয়ের দশকের গোড়া থেকে গৃহযুদ্ধে টালমাটাল ছিল। এখন অবস্থা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও গোটা সোমালিয়ায় নানা অংশে এখনো নানা গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান। নব্বইয়ের দশকের সেই বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতির গর্ভ থেকে জন্ম নেয় উপকূলীয় অঞ্চলের দস্যুদল। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক জাহাজ আক্রমণ করে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নাবিকদের জিম্মি করেছে তারা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি বেশ মনোযোগ পেয়েছে এবং বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে।

কয়লা নিয়ে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাওয়ার সময় ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের আক্রমণের কবলে পড়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। এতে ২৩ জন ক্রু ছিলেন। সোমালিয়ার জলদস্যুরা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। প্রথম দিকে দস্যুদল মাছ ধরার জাহাজে হামলা করলেও ২০০৬-২০০৯ সালের দিকে জলদস্যুরা আন্তর্জাতিক জাহাজের নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করে। চলতি শতকের প্রথম দশকে সোমালিয়ার দস্যুদলগুলো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় হুমকি  হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবে এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয় ২০১২ সালে। ওই সময় সোমালিয়ার প্রশাসন জলদস্যুতাবিরোধী অভিযান করে। দেশটি মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স (পিএমপিএফ) করে নিয়ন্ত্রণ আনতে পদক্ষেপ নেয়। এসব তৎপরতার আগে সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব প্রদেশ পুন্টল্যান্ডের বন্দরগুলোতে দস্যুরাই রাজত্ব করত।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে লাক্ষা দ্বীপের কাছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাহান মনিতে হামলা করেছিল জলদস্যুরা। ওই বছরের ১১ মে দস্যুরা এডেন উপসাগরে একটি বুলগেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ ছিনতাই করে। এর আগে ২০০৮ সালে সোমালি জলদস্যুরা ১১১টি হামলা চালিয়েছিল যার মধ্যে ৪২টি সফল হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসেই জাহাজে হামলার হার ২০০৮ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ছিল। ২০০৯ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৭৯টি আক্রমণ চালিয়ে সোমালি জলদস্যুরা ২১টিতে সফল হয়। এই আক্রমণগুলোর বেশিরভাগই এডেন উপসাগরে ঘটেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত