চরিত্রের প্রয়োজনে চেহারায় পরিবর্তন আনতে হয় অভিনয়শিল্পীদের। কখনও কখনও ওজন বাড়াতে হয় আবার, কখনও শরীরের মেদ ঝরিয়ে একেবারে ছিপছিপে হয়ে উঠতে হয়।
সম্প্রতি, সোশ্যালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের উন্মুক্ত শরীরের একটি ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেতা রণদীপ হুদা। তার জরাজীর্ণ চেহারার ছবি দেখে রীতিমতো চিন্তায় রণদীপের অনুরাগীরা। তবে রণদীপ জানিয়েছেন, তার পরবর্তী সিনেমা ‘স্বতন্ত্র বীর সাভরকর’-এ নামভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনেই তাকে এমন ভাবে ওজন ঝরাতে হয়েছে।
স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাতে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রথম সারির অন্যতম যোদ্ধা হিসেবে উঠে আসে সাভরকরের নাম। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তাকে জীবনের ১১ বছর কাটাতে হয়েছিল দ্বীপান্তরে। সকলের থেকে আলাদা করে সাভরকরকে রাখা হয়েছিল কালাপানির সেলুলার জেলে। সেই ইতিহাস ছুঁয়ে দেখতেই নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন রণদীপ।
তবে এটাই প্রথম নয়। এর আগে ‘সরবজিৎ’ সিনেমার জন্যেও রণদীপকে ওজন ঝরাতে হয়েছিল। তবে, পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দেখে তো অনেকেই অনুপ্রাণিত হন। মেদ ঝরিয়ে ছিপছিপে হয়ে ওঠার জন্য অনেকেই তাদের ডায়েট অনুসরণ করেন। কিন্তু এই ভাবে ওজন ঝরানো কি আদৌ ভালো?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী প্রত্যেকের ওজন যা হওয়া উচিত, তার চেয়ে অস্বাভাবিক কম বা বেশি হলে তার প্রভাব শরীরে পড়বেই। এর ফলে কার্ডিওভাসকুলার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও অস্বাভাবিক নয়। তাই পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিলে কিন্তু বিপদ হতেই পারে।
রণদীপ হুদার এ কী হাল!