বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ফিলিস্তিন আছে ৯৭তম স্থানে। বাংলাদেশের চেয়ে পাক্কা ৮৬ ধাপ এগিয়ে তারা। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের ম্যাচে ফিলিস্তিনকে রুখতে হলে রক্ষণ থাকতে হবে নিরেট। নির্ভুল থাকতে হলে কেবল ডিফেন্ডারদেই মনোযোগী হলে চলবে না, পুরো দল মিলেই সামলাতে হবে ঘর। সতীর্থদের কাছ থেকে সেই সহায়তাই চেয়েছেন দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ।
দুই সপ্তাহ কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে বাংলাদেশ দল এখন কুয়েতে। সেখানে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কুয়েতে পা রেখে অবশ্য প্রবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার আগে যা তাদের আশান্বিত করছে। গ্যালারিতে বাংলাদেশিদের সমর্থনের আশাও বেড়েছে তপুদের, ‘কুয়েতের মাটিতে পা রেখে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা আমরা পেয়েছি তা অবিশ্বাস্য। এমন আতিথেয়তা আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়। আমি আশা করব ম্যাচের দিন মাঠে এসে আমাদের এমনভাবেই সমর্থন জোগাবে সবাই। আমরাও চেষ্টা করব তাদের হতাশ না করতে।’ কুয়েতে পৌঁছে একদিন বিশ্রামের পর সোমবার রাতে প্রথম সেশনে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। দেড় ঘণ্টার সেশনে হয়েছে অনেক কাজ। তপু জানান, ‘সৌদি আরবে আমাদের খুব ভালো ক্যাম্প হয়েছে। এটা ২১ তারিখে ফিলিস্তিনের ম্যাচের জন্য খুব প্রয়োজনীয় ছিল। আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি বিষয় আছে। সৌদি আরব ও কুয়েতে সন্ধ্যার পরে প্রায় একই রকম আবহাওয়া। আমাদের আজকের অনুশীলনটি খুব হাই-ইনটেনসিটি অনুশীলন ছিল। একদিন বিরতির পর এর খুব দরকার ছিল। আমাদের শরীরের জন্য এবং ভ্রমণজনিত আরষ্টতা দূর করার জন্য।’
প্রতিপক্ষ হিসেবে ফিলিস্তিন বেশ শক্তিশালী। শক্তিশালী তাদের আক্রমণভাগও। সেই দলে আছেন সামেহ মারাবা, তামের সেয়াম, ওদে দাব্বাঘের মতো খেলোয়াড়রা। তাই নিজেদের রক্ষণ জমাট রাখার বিকল্প দেখছেন না তপু, ‘আমাদের গোটা দলকেই রক্ষণে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা ডিফেন্ডাররা জানি আমাদের কী করতে হবে। সে অনুযায়ী কোচও আমাদের পরিকল্পনা দিয়েছেন। ফিলিস্তিন কতটা শক্তিশালী তা আমরা জানি। ওদের সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা আমাদের আছে। আমার মনে হয় মূল দায়িত্ব আমরা যারা রক্ষণে আছি তাদেরই নিতে হবে।’
এ মুহূর্তে স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা কাজ করছেন ২৮ জন ফুটবলার নিয়ে। মঙ্গলবার ও বুধবার দুদিনের অনুশীলন শেষে তিনি চূড়ান্ত করবেন ফিলিস্তিনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের স্কোয়াড। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া এশিয়ান কাপে শেষ ষোলতে উঠে সবাইকে চমকে দিয়েছিল ফিলিস্তিন। চ্যাম্পিয়ন কাতারের কাছে হারার আগে তারা গ্রুপপর্বে হংকংকে ৩-০ গোলে হারায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১-১ ড্র করে। এমন দলের বিপক্ষে যেমন প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটা বাংলাদেশ দল নিয়েছে সৌদি আরবে ক্যাম্প করার মধ্য দিয়ে। দুই সপ্তাহের ক্যাম্পে সুদানের মতো দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার সুযোগ হয়েছে। কুয়েতে প্রথম অনুশীলন সেশন শেষে কাবরেরা বলেন, ‘সকালে প্রয়োজনীয় মিটিং সেরেছি। ফিলিস্তিনের ম্যাচগুলোর ভিডিও অ্যানালাইসিস করেছি। দল এখন খুব ইতিবাচক, প্রস্তুত। তারা প্রত্যেকে প্রাণবন্ত এবং সবাই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আগামী দুই দিনের মধ্যে আমরা সবকিছু চূড়ান্ত করব। স্কোয়াডের ২৩ জনই খেলার জন্য প্রস্তুত। আমরা মনে করি, সবকিছু ঠিক পথেই আছে এবং দল লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। ফিলিস্তিনের শক্তি সম্পর্কে আমরা জানি। এ মুহূর্তে তারা খুবই ভালো অবস্থায় আছে। তবে আমার বিশ্বাস, তাদের সঙ্গে আমরা সমানতালে লড়াই করব।’
বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ঢাকায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফিরতি ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ।
