গাইবান্ধার ফুলছড়িতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নুরুন্নবী মিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফুলছড়ি থানা ঘেরাও করেন নুরুন্নবীর স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় পুলিশ বিভোক্ষকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে তারা উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার উপজেলার দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামের বাসিন্দা নুরুন্নবী মিয়া বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষ গোলজার মিয়া ও তার লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নুরন্নবীসহ সাত-আটজন আহত হন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নুরুন্নবী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রংপুর থেকে লাশ নিয়ে বাড়ি এলে নিহতের স্বজনরা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে লাশ নিয়েই ফুলছড়ি থানা চত্বরে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তর্ক ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে উত্তেজিত জনতা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। এতে বিক্ষুব্ধ লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এই ঘটনার পর বিচার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ফুলছড়ি থানার ওসি মো. রাফিকুজ্জামান বসুনিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। নিহত নুরুন্নবীর ভাই সফু মিয়া ১৮ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। এজাহার নামীয় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসী লাশ নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টার করেন। পরে তাদের সান্ত¡না দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
