ভারতের ‘বিতর্কিত’ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ (এনআরসি) প্রয়োগ করা হলে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়বেন মুসলিমদের অনেকে। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবীরা এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। বলা হচ্ছে, সরকার সিএএ কার্যকর করে মুসলিমদের বিদ্যমান গন্ডির বাইরে রাখছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বের আসাম রাজ্যে অসমীয় এবং বাঙালিদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। সেই হিসাব-নিকাশের সূত্রে সেখানে এনআরসি কার্যকর করা হয়। এতে ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া এসব মানুষের মধ্যে মুসলিমদের সঙ্গে হিন্দু বাঙালিরাও রয়েছেন। এখন সিএএর মামলাকারী মুসলিমরা মনে করছে, এনআরসির মাধ্যমে বাদ পড়া হিন্দুরা সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আওতায় আসবেন; কিন্তু মুসলিমদের কোনো সুযোগ থাকবে না।
এ অবস্থায় মামলাকারী পক্ষ সিএএ কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে আর্জি জানান। তাদের ভাষ্য, সারা দেশে এনআরসি হলে মুসলিমরা বাদ পড়বেন এবং তখন তাঁদের প্রতি অবিচার হবে।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসে সিএএ পাশ করানোর পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলতেন, ‘সিএএর পরেই সারা দেশে এনআরসি চালু হবে।’ চার বছর পর সিএএ কার্যকর করে অমিত শাহ এখন বলছেন, সিএএর সঙ্গে এনআরসির কোনো সম্পর্ক নেই। কেন্দ্রীয় সরকারও এখন সুপ্রিম কোর্টে একই যুক্তি তুলে ধরছে। কেন্দ্রীয় সরকারে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এরকম যুক্তিই তুলে ধরছেন। কিন্তু মামলাকারীদের আইনজীবী নিজাম পাশা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ ও এনআরএসি একই ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার পাঁয়তারা করছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সিএএ-র বিধিনিয়মে স্থগিতাদেশ চেয়ে যাবতীয় আর্জি ৯ এপ্রিল শোনা হবে। ২০১৯ সালে সংসদে সিএএ পাস হওয়ার পরেই সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা জমা পড়েছিল। এখনো পর্যন্ত মোট ২৩৭টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি বাদে ২৩৬টিই সিএএর বিরুদ্ধে।
