রমজানে শান্তিপূর্ণ কোনো আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি ঢাবি প্রশাসন

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০৫:৫৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করায় কেউ বিভাগের চেয়ারম্যান, ডিন, পরিচালকের কাছে অনুমতি চাইতে গেলে অনুমতি না দেওয়ার অনুরোধ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস। তবে এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে সে বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর পরিচালক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এসব সংবাদকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজানের অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজানের আলোচনা সম্পর্কিত অনুষ্ঠান আয়োজনে কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন। প্রকৃতপক্ষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কখনও রমজানে শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

বলাবাহুল্য, প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে আসছে।

এতে আরও বলা হয়, কতিপয় রাজনৈতিক সংগঠনের অনুসারীরা পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে, যার ফলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রক্টর অফিস থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে রমজানের অনুষ্ঠান আয়োজনে 'নিষেধাজ্ঞা' শব্দটি কোথাও উল্লেখ নেই। পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এরকম অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা কোনক্রমেই কাম্য নয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান' শীর্ষক আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা করার অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় আন্দোলন করেন। পর দিন প্রক্টর, উপাচার্য ও শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত