অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেপ্তার

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ১১:০৩ পিএম

আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা থেকেই তার বাড়িতে তল্লাশি চলছিল। জব্দ করা হয় তার ফোন। রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি ৯ বার ইডির সমন এড়িয়ে গিয়েছেন। কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান আম আদমি পার্টির কর্মী-সমর্থকেরা। রাজধানী জুড়ে প্রতিবাদ শুরু করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কেজরিওয়াল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী।

তার দল আম আদমি পার্টি বলছে, গ্রেপ্তার হলেও তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। এছাড়া কেজরিওয়াল জেল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সব দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আম আদমি পার্টির নেত্রী অতিশি। যদিও লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তারর মাধ্যমে নয়াদিল্লির রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো।

জানা গেছে, ১২ জন ইডি কর্মকর্তার একটি দল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিল। অন্য দিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রক্ষাকবচ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরিওয়াল। জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার আর্জি জানানো হয় তার পক্ষে। তবে সেই শুনানি বৃহস্পতিবার হয়নি। আগামীকাল  শুক্রবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবগারি দুর্নীতি মামলায় আটবার ইডির হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষ পাঠানো সমনে বৃহস্পতিবারই ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। হাইকোর্ট তা খারিজ করলে সুপ্রিম কোর্টে যান। আদালতে পেশ করা আবেদনে কেজরিওয়াল বলেন, ‘ইডি নিশ্চয়তা দিক, তাদের তলবে সাড়া দিলে আমার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।’

যদিও আম আদমি পার্টির অভিযোগ, ইডির লক্ষ্য জিজ্ঞাসাবাদ নয়। এত দিন ধরেও তারা এই মামলায় কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনো  তথ্যপ্রমাণ পায়নি। তাই লোকসভা ভোটের আগে সমন পাঠিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে আবগারি দুর্নীতি মামলায় বিআরএস নেত্রী কে কবিতাকে গ্রেপ্তার করে ইডি। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। কবিতা ছাড়াও এই মামলায় এখন পর্যন্ত আম আদমি পার্টির দুই প্রবীণ নেতা মনীশ সিসৌদিয়া এবং রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিংহ গ্রেপ্তার হন। তাদের তিহার জেলে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ২০২১-২২ সালে দিল্লি সরকারের আবগারি নীতি বেশ কিছু মদ ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিচ্ছিল। এই নীতি প্রণয়নের জন্য যারা ঘুষ দিয়েছিলেন, তারা সুবিধা পাচ্ছিলেন। আম আদমি পার্টির সরকার সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। সেই নীতি যদিও পরে খারিজ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত