রাশিয়া-গাজা নিয়ে চাপে ইইউ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪, ১২:০৯ এএম

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে। এই সময়টাতে রাশিয়া বরাবর বলে এসেছে, ইউক্রেনে থাকা নাৎসি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তারা অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু গত পরশু প্রথমবারের মতো দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে আছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের ওই ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গত সপ্তাহে আরও ছয় বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ভøাদিমির পুতিনও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও তার সদস্যদের। 

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের গাজা সংকটও নিয়েছে নতুন মোড়। গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত বন্ধ চেয়ে একাধিক প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘে। শুরুর দিকে নিরাপত্তা পরিষদে ওঠা যুদ্ধবিরতির একাধিক প্রস্তাবে ভোটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবার যুদ্ধরাষ্ট্র নিজে যখন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তুলল সেখানে ভেটো দিল রাশিয়া ও চীন। এ অবস্থায় কবে যুদ্ধ থামবে তার কোনো ঠিক আসলেই নেই। ইসরায়েল গাজার রাফা অঞ্চলেও অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও বলেছেন রাফায় হামলা চালানো ঠিক হবে না ইসরায়েলের জন্য।

রাফা হলো গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্ত। এতদিন এই সীমান্ত দিয়ে গাজায় মানবিক সাহায্য পাঠানো হচ্ছিল। নেতানিয়াহু বলেছেন, ওই সীমান্ত দিয়ে কেউ চাইলে গাজার বাইরে চলে যেতে পারেন। চাইলে উত্তর গাজায় যাওয়া যেতে পারে। কারণ এবার ইসরায়েলের বাহিনী রাফায় অভিযান চালাবে।

এর আগে ইসরায়েলের বাহিনী উত্তর এবং দক্ষিণ গাজায় অভিযান চালিয়েছে। সে সময় কয়েক লাখ মানুষ রাফার শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন তাদের পক্ষে সেই শিবির ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডিয়ার লাইয়েন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাশিয়া এবং বেলারুশ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই দুই দেশ থেকে আসা জিনিসের দাম বাড়ানো হবে বলে ঠিক হয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি খাদ্যদ্রব্যের কথা বলেছেন। রাশিয়া থেকে প্রভূত পরিমাণ সিরিয়াল আসে ইউরোপে। মূলত যব এবং গম থেকে তৈরি হয় ওই খাবার। ইইউ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া এবং বেলারুশ থেকে আসা ওই খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে ইউরোপের বাজারে ওই খাদ্যদ্রব্যের বিক্রি কমে যাবে। রাশিয়া এর থেকে মুনাফা করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, রাশিয়া এবং ইউক্রেন বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য ইউরোপ এবং আফ্রিকায় পাঠায়। লোহিত সাগর দিয়ে এই খাদ্যদ্রব্য ইউরোপ এবং আফ্রিকায় পাঠানো হয়। যে কারণে ওই রাস্তাকে বিশ্বের ফুড বাস্কেট বলা হয়। সেই খাবার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ইইউ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত