বিমানবন্দর-গাজীপুর রুটে ৭ ফ্লাইওভারে যান চলাচল শুরু

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০৮:২১ এএম

রাজধানীর বিমানবন্দর থকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত চলমান বিআরটি প্রকল্পের আটটি ফ্লাইওভারের মধ্যে সাতটি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে সচিবালয়ের সভাকক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সাতটি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন। এ সময় তিনি ফ্লাইওভারগুলোকে দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার বলে উল্লেখ করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে গাজীপুরে বিআরটি প্রকল্পের সাতটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে এসব ফ্লাইওভার উন্মুক্ত করায়, বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ঈদযাত্রা আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে। তিনি বলেন, বিগত দিনে ঈদের সময় গাজীপুরে যে ভোগান্তি হয়েছে এবার আর তা হবে না। ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পের ৯১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

ফ্লাইওভারগুলো হলো, ৩২৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার (বাম পার্শ্ব), ৩২৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার (ডান পার্শ্ব), ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের জসীমউদদীন ফ্লাইওভার, ১৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ইউ-টার্ন-১ গাজীপুরা ফ্লাইওভার, ১৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ইউ-টার্ন-২ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লাইওভার, ২৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ভোগড়া ফ্লাইওভার ও ৫৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে চান্দনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভার।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, এই প্রকল্পের কারণে বছরের পর বছর ভোগান্তি হয়েছে। আশা করি আর হবে না। আমি নিজেও অন্তত ৫০ বার এই প্রকল্প দেখতে এসেছি। দেখুন এতগুলো প্রজেক্ট হয়েছে, এর মধ্যে একটি প্রজেক্ট একটু সমস্যা হয়েছে। এটি আমরা স্বীকারও করেছি এবং সমস্যাটি কোথায় সেটিও বলেছি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিনুল্লাহ নূরী, সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন প্রমুখ। এ সময় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান, বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক (সড়ক) এএসএম ইলিয়াস শাহ্, বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক (সেতু) মো. মনিরুল ইসলাম খান, ঢাকা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন, বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, মো. জাকির হোসেন ও আব্দুর রহমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মো. সফিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)  মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি) গাজীপুর-এয়ারপোর্ট রুটের প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০ নভেম্বর ২০১২ সালে। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৪ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।  প্রকল্পের ব্যয় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রকল্পের অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি।

প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পের ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পেডমেন্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আটটি ফ্লাইওভারের মধ্যে সাতটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি ফ্লাইওভারের কাজ চলমান রয়েছে। সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড অংশ ইতিমধ্যে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ২৫টি বিআরটি স্টেশনের ৭৭ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫টি ফুটওভার ব্রিজের ৭৩ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ২৪ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ৩২ কিলোমিটার ফুটপাতের ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গাজীপুরে একটি বাস ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৩৪ কিলোমিটার ফিডার সড়ক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ভারতীয় পণ্য বর্জনের নামে বিএনপি দেশের অর্জন ধ্বংস করতে চায় : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতীয় পণ্য বর্জনের নামে বিএনপি এখন দেশের অর্জনকে ধ্বংস করতে চায়। বাংলাদেশ আর ভারতের যে অবস্থা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে এর ভেতরে এই ধরনের কথা বাস্তবসম্মতও না, বাস্তবতাও নাই। ভারতীয় পণ্য বর্জন নিয়ে বিএনপির ঘোষণার বিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যও জানতে চান মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সচিবালয়ে গাজীপুরের বিআরটি প্রকল্পের সাতটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের উন্মুক্তের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত