রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেছেন, টিকিট কালোবাজারি চক্র দেশকে ধ্বংস করতে চায়। রেলকে ধ্বংস করতে চায়। তারা নিশ্চয়ই অন্য কারো সহযোগিতায় এসব করে। তাদের কাছ থেকে আপনারা কেউই টিটিক কিনবেন না।
আজ মঙ্গলবার রাজবাড়ীতে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহিদ স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসন আয়োজিত রাজবাড়ী অফিসার্স ক্লাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, বিএনপির সময় ফরিদপুর-ভাটিয়াপাড়া রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রেললাইন খুলে বিক্রি করা শুরু হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তা আবার চালু হয়। এখন রাজবাড়ী থেকে ট্রেনে করে মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকায় যাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন চালু করতে হবে। অধিকসংখ্যক মানুষ যাতে সস্তায় ও নিরাপদ পরিবহনের সুযোগ পায় সেটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বলেন, আমি প্রতিবছর একটা লোভে এই অনুষ্ঠানে আসি। কারণ এখানে এলে সবার সঙ্গে দেখা হয়। কে কোথায় হারিয়ে যাবে তার কোনো ঠিক নেই। পাশে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তাদের মধ্যে অনেকেই এখন নেই। পাংশাতে মুক্তিযোদ্ধা সবচাইতে বেশি ছিল। আজকে পাংশাতে দেখলাম জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা খুব কম।
তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের একটা বন্ডিং থাকা দরকার। আমাদের পারস্পরিক একটা সম্পর্ক থাকা দরকার। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের যে সকল সুবিধা রয়েছে এটা দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর জাতীয় পতকা দিয়ে সমাহিত করা হয়। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সম্মানের।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ী রেলের শহর। রাজবাড়ী অনেক কিছু আছে। রাজবাড়ী শহরের অর্ধেকের বেশি এলাকা রেলের। কিন্তু ক্রমান্বয়ে রাজবাড়ী থেকে রেল হারিয়ে যাচ্ছে। আগে লোকোশেড ছিল। এখন লোকোশেড নেই। রেলের অধিকাংশ রেলের জায়গা বেহাত হয়ে গেছে। রেলের কোর্য়াটারগুলো বেদখল হয়ে আছে। রেল ভাড়া পায় না। রাজবাড়ীকে পুনরায় রেলের শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা রেলমন্ত্রী হিসেবে আমার কাজ। আমি প্রথম যেদিন ট্রেনে চড়ে রাজবাড়ী আসলাম রাজবাড়ীতে নেমে আমার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমি প্রথমেই বলেছি রাজবাড়ী স্টেশনে নতুন ভবন নির্মাণ হবে। এখানে যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।
তিনি এ সময় বলেন, রেলভবনের ডিজাইন হচ্ছে। ডিজাইন হলে খুব দ্রুত টেন্ডার হবে। রাজবাড়ীতে একটা কারখানা হবে। এখানে প্রচুর লোক কাজ করবে। এখানে অনেক বেকাররা কাজ পাবে। রেলের সেই ঐতিহ্য ও জৌলুস আমি রাজবাড়ীবাসীকে ফিরিয়ে দিতে চাই।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ, সিভিল সার্জন ইব্রাহিম টিটন, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ আহম্মেদ, বাকাউল আবুল হাসেম।
সভা পরিচালনা করেন আবুল হোসেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শামীমা আক্তার মুনমুন ও জেলা শিল্পকলা একডেমির কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সকালে রেলগেইট শহিদ স্মৃতি ফলকে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীওতাবাদী দল (বিএনপি), কমিউনিস্ট পার্টি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, নাগরিক কমিটি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।
দেয়ার ইজ সামথিং রং, লিটন প্রসঙ্গে পাপন
পানিতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু