ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন ঘরে, পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৪ এএম

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বাকপ্রতিবন্ধী ফয়জুর রহমান (৫৫), তার স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫), তাদের মেয়ে সামিয়া (১৬), সাবিনা (১৩) ও ছেলে সায়েম উদ্দিন (৮)। এ ঘটনায় ফয়জুরের ছোট মেয়ে সোনিয়া আক্তারকে (৬) আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফয়জুর রহমান পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে একটি টিনের ঘরে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। ঘরের ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজ ক্ষমতাসম্পন্ন পল্লীবিদ্যুতের লাইন গেছে। সাহরির আগে ও পরে ঝড়-বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে ঘরের চালে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

ওই এলাকায় অবস্থিত পূর্ব ভাঙারপার জামে মসজিদের দারুল কিরাতের শিক্ষক আনোয়ার আশরাফ সিদ্দিকী জানান, সকাল ৬টার দিকে ফজরের নামাজের পর বিদ্যুৎ লাইনের একটি খুঁটিতে তিনি আগুন জ¦লতে দেখতে পান। তখন অন্য মুসল্লিরাসহ তিনি দ্রুত পল্লীবিদ্যুতের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেন।

তারা ফয়জুরের বাড়িতে গিয়ে দরজা লাগানো দেখে ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখতে পান একজনের ওপর আরেকজনের লাশ। দ্রুত তারা ফায়ার সার্ভিস, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় লাশ বের করেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম জানান, ফয়জুর তার পরিবার নিয়ে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। গুরুতর আহত সোনিয়া সিলেটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিকেল ৪টায় পাঁচজনের লাশ জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়।

ঘরের ওপর উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুতের লাইনের বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান জানান, লাইন স্থাপনের পর ঘরটি তৈরি করা হয়েছে। এখন লাইনটি সরানো হবে। আহত শিশুর চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হবে।

জুড়ী থানার ওসি এসএম মাঈন উদ্দিন জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. ঊর্মি বিনতে সালাম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের স্বজনদের কাছে প্রাথমিক অবস্থায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ওই পরিবারের পাশে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত