গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় আগুনে একটি ঝুটের গুদামসহ পাশে থাকা দুটি আবাসিক কলোনির ৪৬টি কক্ষ পুড়ে গেছে। গত সোমবার রাত ১টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লীবিদ্যুৎ দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েক দিন আগেই উপজেলার তেলিরচালা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন নিহতের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি অগ্নিকাণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়েছে বেশ।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যার হাউজ পরিদর্শক মো. ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, রাতে স্থানীয় ঝুট ব্যবসায়ী জনি মিয়ার গুদামে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন পাশের জনি ও সোহেল রানার মালিকানাধীন আবাসিক কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মোট ৪৬টি কক্ষ ও মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী বলেন, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বাড়ির মালিক জনি জানান, রাত ১টার দিকে ঝুট গুদামে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পাশের দুটি শ্রমিক কলোনিতে ছড়িয়ে পড়ে। কলোনিতে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে বের হয়ে আসে ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জনি বলেন, ‘ঝুটের গোডাউনের আশপাশে প্রায় মাদকসেবীরা নেশা করে। হয়তো তাদের ফেলে দেওয়া অবশিষ্ট বিড়ির আগুন থেকে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রজত বিশ^াস, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ১ হাজার টাকা ও ৩টি করে কম্বল বিতরণ করা হয়। মেয়র জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঈদের আগে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
