নিষেধাজ্ঞায় চাল পায়নি অর্ধেক জেলে পরিবার

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৬ পিএম

দেশের সব নদ-নদীতে জাটকা (১০ ইঞ্চির কম আকৃতির ইলিশ) রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমেও চলছে নিষেধাজ্ঞা। সাগর ও নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও সহায়তার চাল পাননি রামগতি-কমলনগরের জেলেরা।

সরেজমিন জানা যায়, দুই মাস কর্মহীন থাকে জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন। তাদের পরিবারে আয়ের একমাত্র উৎস মাছ শিকার। মাছ ধরা ছাড়া অচল তারা। নদীতে মাছ শিকার বন্ধ মানে জেলেদের জীবন বেকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানান, তাদের পরিবারে ৫ জন নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলে। ৫ জনের কার্ড জমা দিয়ে মাত্র ১ জনের নামে চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। বাকিরা চাল পাননি। দুই বারে মাত্র ৮০ কেজি চাল দিয়ে এতজনের সংসার কিভাবে চালাবেন। তাদের দাবি, শতভাগ বরাদ্দ হলে সব নিবন্ধিত কার্ডধারী চাল পেত।

জেলে আব্দুর রহিম, রবিউল জানান, নদীতে মাছ ধরার বয়স তার প্রায় ২৫ বছর। এখনো জেলে কার্ড হয়নি তার। কয়েকবার জেলে কার্ড করাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। টাকা হলে কার্ড হয়, টাকা নাই কার্ড নাই এমন মন্তব্য করেন।

জেলে মাইন উদ্দিন জানান, পরিবারের ১২ জনের জেলে কার্ড জমা দিয়ে মাত্র ৫ জনের নামে চাল বরাদ্দ পান। তিনি আক্ষেপ করেন, সবাই বরাদ্দ না পেলে কিভাবে দু'মাস সংসার চালাবেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সরকার যদি শতভাগ জেলেকে চালের সুবিধা দিত তাহলে চেয়ারম্যান-মেম্বররা টাকার বাণিজ্য করতে পারতেন না। টানা দু'মাস নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তাহলে বরাদ্দ যদি শতভাগ না হয় জেলেরা কিভাবে সংসার চালাবে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে প্রায় ৩৬৯০৭ জন নিবন্ধিত ও কার্ডধারী জেলে নদীতে মাছ শিকার করে। এদের মধ্যে রামগতিতে ২৩ হাজার ৯৬৯ ও কমলনগরে ১২ হাজার ৯৩৮ জন রয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার (মার্চ-এপ্রিল) জাটকা নিধন ও ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেন। দু'মাস টানা অবরোধ থাকায় সরকার জেলে পরিবারকে প্রণোদনা হিসেবে কর্মব্যবস্থা অবলম্বনে নিবন্ধিত জেলেদের মাথাপিছু ৮০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। বরাদ্দ সংকটে নিবন্ধিত ও কার্ডধারী অর্ধেক জেলেরা ভিজিএফ চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, নিবন্ধিত ও কার্ডধারী জেলেদের প্রায় অর্ধেক পরিবার চাল থেকে বঞ্চিত। সরকারি ভিজিএফের বরাদ্দের সংকট থাকায় শতভাগ চাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। টানা দু'মাস অবরোধে জেলে পরিবারে হতাশা লেগেই থাকে।

কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্তকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, নিবন্ধিত অর্ধেকের একটু বেশি জেলে পরিবার ৮০ কেজি করে চাল পাচ্ছে। বাকিদের চাল সহায়তার আওতায় আনতে পারলে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যেত।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম দেশ-রূপান্তরকে জানান, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম। এর মধ্যে হাইমচর থেকে রামগতির চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার লক্ষ্মীপুরের অংশ। জাটকা সংরক্ষণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতে নদীতে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।

সুবিধাবঞ্চিত জেলেদের সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, সরকারি বরাদ্দ যেভাবে হচ্ছে সেভাবেই জেলেরা চাল পাচ্ছে। তবে বরাদ্দ শতভাগ হলে কিছু অনিয়ম ও বাণিজ্য রোধ করা যেত। প্রকৃত জেলেরা সুবিধা পুরোপুরি পেত। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত