১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী। আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। এ ছাড়া বিশেষ অনুমতি নিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ক্লাস করতেন। ছিলেন তুখোড় বিতার্কিক। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে সুযোগ পেলেও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে তার মন সায় দেয়নি। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন গেরিলা যোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল মাকে রাজি করিয়ে ২ মে রুমী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে সীমান্ত পাড়ি দেন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ নেন। এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশাররফ ও রশীদ হায়দার। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন। রুমী ও তার দলের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে হামলা চালানো। একবার একটি পাকিস্তানি সেনা জিপ তাদের বহনকারী গাড়ির পিছু নিলে তিনি গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে ‘লুক লুক, এ জিপ ইজ ফলোয়িং আস’ বলে গুলি করেন। তার গুলিতে পাকিস্তানি জিপের ড্রাইভার নিহত হয় এবং গাড়ি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খায়। বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা তার গুলিতে মারা যায়। এরপর তিনি সহকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট তিনি তার নিজের বাড়িতে কাটান এবং রাতেই বেশ কিছু গেরিলা যোদ্ধার সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। রুমীর সঙ্গে তার বাবা শরীফ ও ভাই জামীকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট রুমী নিখোঁজ হন। পরে আর কখনো তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
×
