অর্থনৈতিক সংকটে জর্জাড়িত পাকিস্তানে নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণের এক মাস যেতে না যেতেই ইসলামাবাদ হাইকোর্টে ছয়জন বিচারপতির চিঠি নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে তাদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন বিচারকরা। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার বরাবর চিঠি দিয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। কাজি ফায়েজ ইসাও ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারপতির চিঠি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার বৈঠক হয়েছে।
চিঠিতে বিচারপতিরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক মামলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভয় দেখাচ্ছে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)’। বিচারকরা সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের ‘অংশ’ অভিহিত করে বিচার বিভাগের ওপর এর হস্তক্ষেপ নিয়ে নালিশ করেছেন। তারা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসা বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগে হস্তক্ষেপ এবং বিচারিক কর্মকা-ে যেকোনো ধরনের নাক গলানো কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’ পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের নেতা বর্তমান আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, ‘আমরা চাই, অভিযোগের ব্যাপারে পূর্ণ তদন্ত হোক। কারণ, আমরা নিজেরাও এর ভুক্তভোগী।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খানকে কারাগারে বন্দি রেখে নির্বাচনের আগে কয়েকটি মামলায় টানা সাজা ঘোষণা করা হয়। দেশের মানুষের ধারণা, সামরিক বাহিনীর বিরাগ ভাজন হওয়ায় ইমরানের ওপর এতটা আইনি চাপ নেমে এসেছে। ছয় বিচারপতির চিঠিতে উঠে এসেছে ইমরানের মামলার প্রসঙ্গও। বিচারপতিরা উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক মামলা গ্রহণের বিরুদ্ধে গত বছর সিদ্ধান্ত দেওয়া দুই বিচারপতিকে নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের মাধ্যমে ভয় দেখিয়েছেন আইএসআই কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী ও তার গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব নতুন কোনো আলোচনা নয়। তবে এ নিয়ে বিচারকদের উদ্বেগ প্রকাশ বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এবার সামরিক বাহিনীর ছায়াতলে থেকে ক্ষমতায় এলেও পিএমএল-এন নেতৃত্ব অভিযোগ করে থাকে, নওয়াজ শরিফকে ২০১৭ সালে অযোগ্য ঘোষণার মূলে কাজ করেছে আইএসআই।
