১২ দিনেও প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৬:১০ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুতের ১২ দিনেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেননি তদন্ত কমিটি। ২০৮ সেতুর বিয়ারিং প্লেট খুলে নেওয়ার ফলে এ দুর্ঘটনা, নাকি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে সেতু ও রেলের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এ দুর্ঘটনাÑ তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার। স্থানীয়দের দাবি, এ দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে সেতু ও রেলের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, সেতুর বিয়ারিং প্লেট খুলে নেওয়ায় এ দুর্ঘটনা।

গত শনিবার রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, রেলের কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিপ্রধান পূর্ব রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। আরও সময় লাগবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেব। এর আগে কিছু বলতে পারছি না।’

এ ঘটনায় নাশকতা সন্দেহে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। এর অভিযোগে চার কিশোরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দৌড়কড়া কাদেরিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তারা ওই গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলার ঢালুয়া ইউপির উরকুটি গ্রামের কামালের তথ্যের ভিত্তিতে ওই চার কিশোরকে আটক করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পরপরই নিরুদ্দেশ কামাল। তার বাড়িতে গিয়েও ঘরে তালা বন্ধ দেখা যায়।

এ বিষয়ে রেল পূর্বাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, বিয়ারিং প্লেট খুলে নেওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কালু বলেন, ‘এটা স্পষ্ট রেলওয়ের দুর্বলতার কারণে এ দুর্ঘটনা। তদন্ত কমিটি আসে দূর থেকে, দেখে দূর থেকে। কিন্তু যারা রেললাইনের আশপাশে থাকে, তারা আসল ঘটনা জানে।’

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ওসি মুরাদ উল্লাহ বাহার বলেন, ঘটনাস্থলে একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগ তল্লাশি করে জন্মনিবন্ধন সনদ ও রেলে সেতুর তিনটি বিয়ারিং প্লেট পাওয়া যায়। যার সূত্র ধরে ওই চার কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। সে অনুযায়ী আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়।

গত ১৭ মার্চ দুপুরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের তেজের বাজারে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে বিজয় এক্সপ্রেসের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। চার দিন নিরবচ্ছিন্ন কাজ শেষে উদ্ধার করা হয় বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি। এলাকাবাসীদের মধ্যে কেউ বলছে, লাইনের বেয়ারিং প্লেট খুলে ফেলায় এ দুর্ঘটনা। কারও কারও দাবি, দুর্বল কালভার্টের কারণে বিজয় এক্সপ্রেসের নয়টি বগি ছিটকে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত