শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জাল টাকার জ্বালা

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

স্বৈরাচারী এরশাদের শেষ সময়ে, ১৯৮৯ সালের শুরুতেই বাজারে জাল নোটের সরবরাহ শুরু হয়। তখন গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল, রাজধানী ঢাকা থেকে জাল টাকা চক্রের ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। মূলত সেই থেকেই জাল টাকার ব্যবসা বাড়ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত এই চক্রের হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও, তাদের অপরাধের বিচার এবং সাজার মাত্রা কী, আমরা জানি না। তার চেয়েও বড় কথা, কোন মহল হাজার হাজার কোটি জাল টাকার ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে? জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এরই মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শুধু চক্র ধরা আর ‘বিনিময় প্রথা’র মাধ্যমে তাদের মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে যুগের পর যুগ এই ‘লাভজনক ব্যবসা’ চলছে। কিন্তু ঈদের সময় এই চক্রের তৎপরতা ব্যাপক আকারে বেড়ে যায়। বিশাল চক্রের কয়জনকেই বা আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে? যদিও মাঝেমধ্যে জানা যায়, অমুক চক্রের এতজন সদস্যকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ আটক করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশব্যাপী জাল নোট আতঙ্কে মানুষ। বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে এ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জনগণও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। শুধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক না। সমস্ত দেশের ব্যবসায়ীরাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ বিষয়ে রবিবার দেশ রূপান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘চট্টগ্রামে জাল নোট আতঙ্ক’ প্রতিবেদনে নগরীর টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান জানাচ্ছেন চট্টগ্রাম ঈদের একটি বড় বাজার। যে কারণে জাল নোটের কারবারিরা চট্টগ্রামকে তাদের টার্গেটে পরিণত করতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল নোট ধরা পড়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা রোধে এখন থেকেই প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও যথাসম্ভব টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বছর জুড়েই রাজধানীসহ সারা দেশে কমবেশি সক্রিয় থাকে জাল টাকা তৈরির বেশ কয়েকটি চক্র। চলমান সব ধরনের নোট জাল করে নানা কৌশলে তা বাজারে ছাড়া হচ্ছে। তবে জাল টাকা চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে এর নিরাপত্তা সুতা। ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের প্রত্যেক নোটেই এর মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সংবলিত নিরাপত্তা সুতা থাকে। নিরাপত্তা সুতার ৪টি স্থানে নোটের মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো মুদ্রিত রয়েছে। নোট চিৎ করে ধরলে নিরাপত্তা সুতায় মূল্যমান লোগো দেখা যায়। এই নিরাপত্তা সুতা অনেক মজবুত এবং  নোটের কাগজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি নখের আঁচড়ে বা নোট মুচড়িয়ে কোনোভাবে উঠানো সম্ভব নয়। কিন্তু, জাল নোটের নিরাপত্তা সুতা সহজেই নখের আঁচড়ে উঠে যায়। অবাক বিষয় হচ্ছে, জাল টাকার কারবার এখন অনলাইনেও দেখা যায়। বিভিন্ন পেজ খুলে জাল টাকার বিজ্ঞাপন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দেশের যে কোনো স্থানে নিরাপত্তার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হবে। আবার ইনবক্সে যোগাযোগের জন্যও বলা হচ্ছে। কারবারি চক্রের সদস্যরা বলছে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গায় গেলেই মিলবে জাল নোট। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের সাইবার ইউনিট কি এসব লক্ষ করে না? জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বিভাগীয় শহর, জেলা শহরের যেসব স্থানে বেশি জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলোতে বিশেষ স্ক্রিন স্থাপন করে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানোর কথা রয়েছে। কিন্তু তাতে কি জাল নোটের তৎপরতা বন্ধ হবে! মূলত কোন পক্ষ রয়েছে এর শেষ মাথায়, তাদের কেন আইনের আওতায় হচ্ছে না? সরকারের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে দ্রুত এ বিষয়ে দেশের মানুষকে মোবাইল এসএমএস, দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়ে আসল নোট চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া তুলে ধরা। কারণ যে হারায়, সেই-ই জানে জাল টাকার কী জ্বালা? 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত