শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঈদে নতুন জামা পড়া হলো না শিশু নাসরিনের

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীতে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ নাসরিন নামের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে মীর হোসেন (৩৭) নামের  এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার  গভীর রাতে চকলেট, চিপস দিয়ে বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে রিকশাযোগে নগরের টাইগারপাস এলাকায় নিয়ে যান মীর হোসেন। রেলওয়ে পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে নাসরিনকে ধর্ষণ করেন তিনি। এক পর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন।

শিশুটির মা বিলকিস পুলিশকে জানান, তার পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে। আড়াই বছর আগে এক ছেলে হারিয়ে যায়। আরেক ছেলের বয়স দুই বছর। পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে দিয়েছেন। সবার ছোট নাসরিন। স্বামী আবদুর রাজ্জাক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান। স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। তাই তিনি পরিত্যক্ত বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। দীর্ঘদিন ধরে আছেন নগরের বাকলিয়া থানার বউবাজার এলাকায়।

বিলকিস পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, গত ২০ মার্চ ফুটপাত থেকে মেয়েকে একজোড়া জুতা কিনে দেন তিনি। ঈদের জন্য দোকান থেকে থান কাপড় কিনে কামিজও সেলাই করতে দিয়েছেন। রবিবার দিবাগত রাত একটার দিকে নাসরিনকে আন্দরকিল্লা শাহি মসজিদের উত্তর গেটের সামনে বসিয়ে রেখে বোতল কুড়াতে থাকেনা তিনি। আধঘণ্টা পর এসে দেখেন, তার শিশুটি নেই। খোঁজাখুঁজি করে সন্তানকে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। গত সোমবার দিবাগত রাত দশটার দিকে কোতোয়ালি থানার ফলমন্ডি এলাকার একটি ময়লার ভাগাড়ে (ডাস্টবিন) বস্তাবন্দী এক শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নগর পুলিশের উপকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর একটি ভ্যান থেকে বস্তাবন্দী লাশটি ময়লার ভাগাড়ে ফেলে যান এক ব্যক্তি। পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে নগরের বাকলিয়া এলাকা থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী মীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

জিজ্ঞাসাবাদে মীর হোসেন পুলিশকে জানান, শিশু নাসরিন ও তার মা বিলকিস আগে থেকে তাকে চিনতেন। শিশুটিকে না মারলে ধরা পড়ে যাবেন, এই ভয়ে তাকে মেরে ফেলেন। এরপর শিশুটিকে বস্তাবন্দী করে নির্জন পাহাড়ে রেখে দেন। পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভ্যানগাড়িতে করে ফলমন্ডির ডাস্টবিনে মরদেহ ফেলে রেখে যান।

কোতোয়ালি থানার ওসি ওবায়েদ জানান, মীর হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় ২০১২ সালে আরেকটি ধর্ষণের পর হত্যার মামলা রয়েছে। বিবাহিত হয়েও সে নগরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক শিশু, কিশোরী ও নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত