হাঁপানি রোগীদের ফুসফুসের ক্ষতির নতুন কারণ আবিষ্কার

  • বারবার হাঁপানির কারণে রোগীর শ্বাসনালীতে স্থায়ী দাগ বসে যেতে পারে এবং সরু হয়ে যেতে পারে

  • এই ক্ষতি হওয়ার আগেই রোগীকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা ওষুধ নিতে হবে বলছে গবেষকরা
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৬ পিএম

হাঁপানির কারণে রোগীর শরীরে যেসব ক্ষতি হয়, তার পেছনে নতুন একটি কারণ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁপানিতে (অ্যাজমা) আক্রান্ত হওয়ার সময় রোগীর শ্বাসনালিতে আস্তরণকারী কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

সায়েন্স সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছে কিংস কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী দল। খবর বিবিসি।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁপানিতে আক্রান্তরা ধুলাবালু, পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে এলে কিংবা ব্যায়াম করলে শ্বাসনালি আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয়। এতে করে হাঁপানি রোগীর কাশি, শ্বাসকষ্ট হয় এবং শ্বাস গ্রহণের সময় শব্দ হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা না করে বরং ক্ষতি হওয়ার আগেই রোগীকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা ওষুধ নিতে হবে।

তবে হাঁপানির ওষুধ বা ইনহেলার এই প্রদাহ কমাতে পারে এবং শ্বাসনালী খোলা রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু বারবার হাঁপানি হওয়ার কারণে রোগীর শ্বাসনালীতে স্থায়ী দাগ বসে যেতে পারে এবং সরু হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবার হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সময় রোগীর শ্বাসনালির চারপাশের কোমল মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হতে থাকে, যা ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন নামে পরিচিত।

বিস্তারিতভাবে এ প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করার জন্য কিংস কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী দলটি ইঁদুর ও মানুষের ফুসফুসের টিস্যুর নমুনা ব্যবহার করেছে।

প্রধান গবেষক প্রফেসর জোডি রোজেনব্ল্যাট বলেন, ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনের কারণে শ্বাসনালির আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ, ক্ষত নিরাময় এবং সংক্রমণের ফলে বার বার হাঁপানির ঝুঁকি দেখা দেয়।

তিনি বলেন, এত দিন শ্বাসনালির আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে এ ক্ষতির জন্য একটি সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার কথা বলেছে গবেষক দলটি। তারা এর জন্য গ্যাডোলিনিয়াম নামের একটি উপাদান আবিষ্কার করেছেন। আপাতত ইঁদুরের ওপর উপাদানটি প্রয়োগ করে কার্যকারিতা পেয়েছেন তাঁরা।

তবে মানুষের ওপর এর পরীক্ষা চালানোটা নিরাপদ ও যথেষ্ট কার্যকরী হবে কি না, তার জন্য আরও কাজ করতে হবে। আর তা করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত