আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন না থাকলেও ফেনীর ছয় উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্র ও জেলা নেতাদের গ্রিন সিগন্যাল পেতে চান দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৪ জন সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫৮ জন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।
আওয়ামী লীগের জেলাপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাস্টার আলী হায়দার মানিককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিমের সদস্যরা তিন দিন ধরে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরের স্টেশন রোডের দলীয় কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে রেজিস্ট্রার ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রেজিস্ট্রারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আগ্রহী ২১ জন নেতা নাম লিখিয়েছেন। এ সময় প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করে এ টিম। এই টাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সংস্কারকাজের জন্য বলে জানান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল।
মাস্টার আলী হায়দার মানিক বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তাদের সম্পর্কে জানার জন্য দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। এ সময় নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠু করা যায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।
ফুলগাজী, পরশুরামসহ সারা দেশের প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৭ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ভোটগ্রহণ ৮ মে। ১৫২ উপজেলার মধ্যে ৯ জেলার ২২ উপজেলায় ভোট হবে ইভিএমে। দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ২৩ মে, তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ৫ জুন। সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পরশুরাম উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদারের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ফিরোজ মজুমদার, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আজাদ, উপজেলা সহসভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সফিকুল হোসেন মহিম, মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ভুট্টু, বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রিন সিগন্যাল কে পাচ্ছেন এবং কে হচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে ফুলগাজী উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল আলিম মজুমদারের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আবদুল্লাহ, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ পারভেজ তুহিন, আইনজীবী গাজী তারেক আজিজসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রিন সিগন্যাল কে পাচ্ছের এবং কে হচ্ছের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া ছাগলনাইয়া উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিল্পপতি মিজানুর রহমান মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম ফারুক, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এনামুল হক, ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে ফেনী সদর উপজেলা পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল ছাড়াও স্টারলাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাফর উদ্দিন ও সাবেক ছাত্রনেতা ব্যাংকার মনোয়ার হোসেন সেন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে ফেনী সদর উপজেলা পরিষদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীলের সম্ভাবনা বেশি বলে নেতাকর্মীরা জানান।
দাগনভূঞা উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জায়লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মামুনুর রশিদ মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবদীন মামুন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু নাছেরসহ বেশ কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে সোনাগাজী উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জেডএম কামরুল আনাম ও আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে।
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এ কে শহীদ উল্যাহ খোন্দকার, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জ্যোৎস্না আরা বেগম জুসি ছাড়াও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুমান আরা গিয়াস খুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক খাদিজা আক্তার খানম রুনা, আওয়ামী লীগ নেত্রী রোকেয়া ইসলাম, যুব মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক মঞ্জিলা আক্তার মিমি, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পিনু ও মোর্শেদা আক্তার, রহিমা বেগম।
পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাঠে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পেয়ার আহাম্মদ বাবলু, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. নাছির আজম মজুমদার, সাংবাদিক আবু ইউসুফ মিন্টু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আবদুর রসুল ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ সৈকতসহ একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সামছুন নাহার পাপিয়া, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল করিম মজুমদার বাদলের সহধর্মিণী নিলুফা ইয়াসমিন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রাহেলা আক্তার, জেলা পরিষদ সাবেক সদস্য নিলুফার করিম মজুমদার, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসরিন খালেদা রত্না, যুব মহিলা লীগ নেত্রী রহিমা জাফর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার কথা শোনা যাচ্ছে।
ফুলগাজী উপজেলায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অনিল বণিক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক কালা, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন মজুমদার শাহীন, আবদুস সালাম, পরিমল রায়, আবদর রহিম, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক একরাম হোসেন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মঞ্জুরা আজিজ ও জেলা যুব মহিলা লীগ সভাপতি দিল আফরোজ।
ছাগলনাইয়া উপজেলায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার আহমদ, উপজেলা মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আলমগীর ভূঞা রনি, জসিম উদ্দিন, আবদুল বাকি শিমুল, মজিবুর রহমান ও কামাল উদ্দিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিবি জোলেখা ও ফারজানা ববি।
দাগনভূঞা উপজেলায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহীন, মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এছহাক জগলু, রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাশেদুল হক বাবর ও আনোয়ার হোসেন ভূঞা, জায়লস্কর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন হায়দার, আবুল কায়েস রিপন, নুর মোহাম্মদ মাওলা, নিজাম উদ্দিন, নুরের ছাপা পলাশ, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাবেয়া আক্তার রাবু, তাছকিরা তাননিম, শিরিন আক্তার ও রোকেয়া আক্তার।
সোনাগাজীতে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক বিটু, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল বাহার ফয়সাল, ইছহাক খোকন, মফিজ উদ্দিন, ফারুক হোসেন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জোবেদা নাহার মিলি, খোদেজা খানম শাহীন ও আকলিমা আক্তার মায়ার নাম জানা গেছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রীসহ দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে হবে। এখানে মন্ত্রী-এমপিদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত প্রশাসনও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। কেউ কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
