জুলাই মাস থেকে মেট্রোরেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট আরোপের কারণে ভাড়া ১৫ শতাংশ বেড়ে যাবে, ফলে মেট্রোরেল ব্যবহারকারী ঢাকার স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনেকের জন্যই তা নিয়মিত ব্যবহারের সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে।
মেট্রোরেলে ভ্যাটের কড়া বিরোধিতা করেছে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন গবেষণা এবং নীতিবিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। তারা মেট্রোরেলে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। গতকাল রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
আইপিডির পরিচালক নগরপরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি বলেছে দেশের ৮৭ শতাংশ ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্ত নাগরিক আয়কর দেন না। ধনী-গরিবের গণপরিবহন মেট্রোরেলে ভ্যাটের মতো পরোক্ষ কর বসিয়ে রাজস্ব আদায় না করে ধনীদের কাছ থেকে আয়কর বাড়ানোতে এনবিআরের নজর দেওয়া উচিত মনে করে আইপিডি।’
মেট্রোরেলের ভাড়া সাধ্যের মধ্যে রাখতে গণমানুষের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ও এনবিআরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে মেট্রোরেলের সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেট্রোরেলে ভর্তুকি কমানোর বিকল্প কৌশল সন্ধানের দাবি জানিয়েছে আইপিডি।
আইপিডির পরিচালক বলেন, ‘ঢাকা শহরে মেট্রোরেলের ভাড়া এশিয়ার অন্য অনেক দেশের তুলনায় এমনিতেই বেশি। ভারতের কলকাতা, পাকিস্তানের লাহোর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মেট্রোরেলে ভাড়া বাংলাদেশের মেট্রোরেলের ভাড়ার তুলনায় কম। পিক আওয়ারে ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রীর বর্তমান চাহিদা ও মাত্রাতিরিক্ত চাপ দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই যে, মেট্রোরেলের ভাড়া মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের সাধ্যসীমার মধ্যেই আছে। ঢাকায় মানসম্মত গণপরিবহনের তীব্র সংকট ও মাত্রাতিরিক্ত যানজটের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন অন্যান্য ব্যয় কাটছাঁট করেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মেট্রোরেলে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। উত্তরা-মতিঝিলের রুটের অনেক স্বল্প আয়ের লোকেরা বিদ্যমান ভাড়াতেই মেট্রোরেল চড়ার সামর্থ্য রাখেন না বলে বাধ্য হয়ে মানহীন বাসে চলাচল করছেন।’
তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা দৈনিক পাঁচ লাখ হলেও এখন ঢাকায় প্রায় তিন লাখ যাত্রী এটি ব্যবহার করছেন। সক্ষমতার পুরো মাত্রায় মেট্রোরেলের ব্যবহার করতে পারছি না আমরা। এ অবস্থায় মেট্রোরেলের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব এটির ব্যবহার সংকুচিত করতে পারে। রাজধানী ঢাকার মতো মেগা সিটিতে যাতায়াত ও পরিবহনে মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ মানুষের অধিকার। এসডিজির ধারণার অন্যতম হচ্ছে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর, যেখানে পরিষেবা ও নাগরিক সুবিধাদি সব আয়ের মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকবে। ফলে মেট্রোরেলের জন্য এনবিআরের উচিত বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর মওকুফ সুবিধা অব্যাহত রাখা।
