বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আনন্দের ঈদে সিনেমা দেখে মানুষের কান্না কেন?

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম

ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে দেশীয় চলচ্চিত্র এক অন্যমাত্রা যুক্ত করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক হল বন্ধ হয়ে গেছে, ঈদের আমেজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিনেমা হলগুলোতে যেন সেই আনন্দ ফের ফিরে এসেছে। ফের মানুষজন সিনেমা হলে যাচ্ছে। সিনেমা হলে ঢল নামতে দেখা গেছে গত ঈদে। 

এরই ধারাবাহিকতায় এবারে ঈদে দেশের সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ১১ টি চলচ্চিত্র। নিশ্চিত পুঁজি উঠিয়ে আনতে অনেকেই ঈদে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক সিনেমা ঈদে মুক্তি পেয়েছে। তবে এই মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার ব্যবসা কেমন সে প্রসঙ্গে না গিয়ে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। এবারের ইদ আনন্দকে বাড়িয়ে নিতে গিয়ে দর্শকেরা হলে যচ্ছিলেন, কিন্তু অনেক দর্শক কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে আসছিলেন। এমন অনেকগুলো দৃশ্য দেশ রূপান্তর ডিজিটাল কিংবা সামাজিক মাধ্যমে বেশকিছু ভিডিওতে দেখা গেছে।

শুধু দর্শকই নন, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীও ‘ওমর’ সিনেমা দেখে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে আসছিলেন। দেশ রূপান্তর ডিজিটালের এক ভিডিওতে দেখা যায়, হল থেকে সিনেমা দেখে বের হয়ে তিনি কাঁদতে কাঁদতে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজকে জড়িয়ে ধরেন। 

এরপর কান্না থামিয়ে চয়নিকা বলেন, ‘মোস্তফা কামাল রাজ যদি আমার বড় হতো, তাহলে তাকে আমি স্যালুট জানাতাম। রাজ যে সিনেমা বানিয়েছে, আমি কান্না ধরে রাখতে পারছি না। নায়িকাহীন এমন সিনেমা কেউ বানাতে পারে, তা কল্পনাতেও ছিল না।’

নির্মাতা রাজকে উদেশ্য করে চয়নিকা বলেন,  ‘তোমার এই সিনেমা হিট হওয়া উচিত, মানুষের দেখা উচিত। মানুষ যদি নাও দেখে তুমি সুপার বানাইছো। আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাচ্ছিল।’

এদিকে, শাকিব খানের ‘রাজকুমার’ ছবি দেখে কাঁদতে কাঁদতে কাঁদতে একজন ভক্ত সিনেমা হলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঐ ভিডিওতে দেখা যায় একজন দর্শক হলের মেঝেতে পড়ে আছেন। ভিডিওতে আরো দেখা যায় সিনেমা হলের পর্দা, সেই পর্দায় রাজকুমার ছবিটির শেষাংশ। ভিডিওতে বলতে শোনা যাচ্ছে সিনেমার শেষ এক ঘণ্টা শুধু ওই ব্যক্তি কেঁদেই গেছেন। শাকিব খানের পরিণতি তিনি মেনে নিতে পারেননি, তাই কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে গেছেন তিনি।  

আরেকজন দর্শক একই সিনেমা দেখে বের হয়ে কাঁদতে কাঁদতে নির্মাতা হিমেল আশরাফকে অনুরোধ করে বলেন, প্লিজ আমাদেরকে কাঁদাবেন না। আপনার কাছে অনুরোধ এমন কান্না করানো সিনেমা যেন বানান।

এদিকে জায়েদ খানের মুক্তিপ্রাপ্ত সোনার চর সিনেমা দেখেও নাকি দর্শক কেঁদেছেন। রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমা'সে দর্শকেরা ছবি দেখে বের হয়ে বলছিলেন, জায়েদ খানের এই সিনেমা দেখে হলে কয়েকবার কেঁদেছি।

তবে কান্না মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করবে, সিক্ত করবে; কান্না ছোঁয়াচে রোগের মতো কষ্টদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি করবে। কিন্তু ঈদের ছবি দেখে কান্না করার ভিডিওগুলো সাধারণ নেটিজেনদের হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। অনেক চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ আনন্দে দর্শকেরা হলে গিয়ে কাঁদছেন কেন, ঈদে আনন্দ করার কথা; কান্না সমীচীন নয়। 

দর্শকদের কাঁদাতে পারলেই কি সিনেমাটি ভালো? এমন প্রশ্নও করেছেন অনেকে। এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন। দেশ রূপান্তরকে বললেন, ‘যদি ঘটনার মধ্য দিয়ে দর্শককে স্পর্শ করা যায়, দর্শক কাঁদে তাহলে সেটা একটা সফলতা। কিন্তু শুধুই কান্না করানোর চেষ্টা তো সিনেমার হিট ফ্লপ নির্ধারণ হয় না। একটি গল্প এগিয়ে যায়, অভিনয়শিল্পীদের গল্পের সঙ্গে অভিনয় দর্শক হৃদয়কে স্পর্শ করে, হৃদয়কে সিক্ত করে তাহলে একটি ছবির সফলতা আসতে পারে। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শুধু দর্শক কাঁদাবে এটা অভিনয়েরে মানদণ্ড হতে পারে।’

ঈদের ছবিতে দর্শক কাঁদছে, এ বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে শাহীন সুমন বলেন, ঈদের ছবি এখনো আমার দেখা হয়ে ওঠেনি। তাই এখন আমি সিনেমা নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত