‘দোকান উচ্ছেদে আমরা পথে বইসা গেলাম’

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম

বঙ্গবাজারে দুই দশক ধরে ব্যবসা করে আসছেন লক্ষ্মীপুরের মো. ইসমাইল। গত বছর বঙ্গবাজার মার্কেটে লাগা ভয়াবহ আগুনে তার দোকানোর সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। নিঃস্ব ইসমাইল সেই ধকল কাটাতে বঙ্গবাজারে অস্থায়ী দোকানো ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গতকাল সোমবার তার অস্থায়ী দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

দোকান ভাঙ্গার খবর শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ইসমাইল। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আসলে কিছু বলতে পারছি না, দোকান উচ্ছেদে আমাদের বুক ফেটে যাচ্ছে। দোকান উচ্ছেদে আমরা পথে বইসা গেলাম। দয়া করে আমাদের কথাগুলো একটু প্রচার করিয়েন।’ ইসমাইলের মতো অনেক ব্যবসায়ী দোকান উচ্ছেদের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই দোকান উচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্পত্তি বিভাগের উদ্যোগে বঙ্গবাজারে অস্থায়ী দোকান ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবারও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বঙ্গবাজারের অস্থায়ী মার্কেটের সব জিনিসপত্র এরই মধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। কেবলমাত্র পুরো মাঠজুড়ে বাঁশের কাঠামো রয়েছে। উচ্ছেদের দায়িত্ব পালন করছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)। ভেকুর সাহায্যে সামনের দিক থেকে বাঁশের ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী দোকান ভেঙে এক পাশে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেসব বাঁশ ও কাঠ স্থানীয় ভাসমান মানুষজন যে যেভাবে পারছে নিয়ে যাচ্ছে। রিকশা, ভ্যানগাড়ি এমনকি সিএনজির উপরে তুলেও বাঁশ নিয়ে যেতে দেখা যায়।

বঙ্গবাজারের আরেক ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার চারটা দোকান ছিল। আর আজ এসে দেখি কিছুই নাই। সবাইকে জানিয়ে দোকান উচ্ছেদ করা উচিত ছিল। আমার মতো শত শত মানুষ গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছে। তারা এসে দেখবে তাদের দোকান ও মালামাল কিছুই নাই। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের কী গতি হবে সেটা আল্লাহ জানেন।’

ভেকু চালক রাজন মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের তাদের যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়। আর উচ্ছেদের বিষয়টি হুট করে হয়নি। আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরে যাওয়ার আল্টিমেটাম ছিল। নিয়ম মেনেই গতকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ এপ্রিল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয় রাজধানীর সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় পাইকারি কাপড়ের মার্কেট বঙ্গবাজার। পরে এই মার্কেটের আধুনিক রূপদান এবং সেখানে ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিকল্পনা অনু্যায়ী  ‘বঙ্গবাজার পাইকারি নগর বিপণিবিতান’ ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক এ ভবনে থাকবে বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোর। গ্রাউন্ড ফ্লোরে মোট ৩৮৪টি, প্রথম তলায় ৩৬৬টি, দ্বিতীয় তলায় ৩৯৭টি, তৃতীয় তলায় ৩৮৭টি, চতুর্থ তলায় ৪০৪টি, পঞ্চম তলায় ৩৮৭টি, ষষ্ঠ তলায় ৪০৪টি ও সপ্তম তলায় ৩১৩টি দোকান থাকবে। এছাড়া, অষ্টম তলায় দোকান মালিক সমিতির অফিস, কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হবে। ভবনের পার্কিংয়ে একসঙ্গে প্রায় ১৮৫টি গাড়ি ও ১১০টি মোটরসাইকেল পার্কিং করা যাবে। ভবনটিতে ২২টি খাবারের দোকান রাখা হবে। সেই সঙ্গে নকশায় আরও ৮১টির বেশি দোকান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি দোকানের আয়তন হবে ৮০-১০০ স্কয়ার ফুট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত