অজয় রাই। উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা। তিনি বারাণসী লোকসভা কেন্দ্রে ভারতের বর্তমান বিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’-এর প্রার্থী হয়েছেন। তিনি যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০৯ সাল থেকে বারাণসীতে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ দুটি লোকসভা নির্বাচনে তিনি হেরেছেন মোদির কাছে। তবে তার এই হারই যেন তার ভারতজোড়া পরিচিতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০৯ সালে বিজেপির নেতা মুরলি মনোহর জোশির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান অজয় রাই। পরে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যান তিনি। তবে তার হারগুলো সাহসী লড়াই হিসেবেই আলোচিত। কারণ মুরলি মনোহর থেকে মোদি; সবাই বিজেপির সামনে প্রখ্যাত নেতা। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা চাট্টিখানি কথা নয়। গত বছর আগস্টে অজয়কে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়। অর্থাৎ টানা চতুর্থবার বারাণসীর মাটি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে তিনি বড় দায়িত্ব নিয়ে নিজের দক্ষতা পরখ করেছেন।
বলে রাখা ভালো, অজয় যেনতেন কোনো নেতা নন, বরং তিনি পুরোপুরি জননেতাই। তা না হলে কি আর পাঁচবার বিধায়ক হন তিনি। তার ব্যর্থতা শুধু লোকসভায়, তা-ও বড় তারকা প্রার্থীর সামনে। এবার সমাজবাদী ও কংগ্রেসের জোট হয়েছে। তাই তার ভোট বাড়বে বলেই মনে করেন অনেকে। তবে বিশ্লেষকরা বলেন, অজয়ের জয়ের সম্ভাবনা তবুও নেই।
মোদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার লড়াইটা আলাদা হবে, দেখে নেবেন।’ প্রথমে বিজেপি, পরে সমাজবাদী পার্টি, আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সর্বশেষে কংগ্রেস এই হলো অজয়ের রাজনৈতিক জীবনের যাত্রাপথ। তিনি আরও বলেন, ‘বারাণসী আমার মাতৃভূমি, আমার জন্মভূমি, আমি কেমন করে তা ছেড়ে চলে যাব? আমি আমার বারাণসীর মানুষের সঙ্গে আছি।’
