‘দ্বিতীয় লেগটি এখন অনেকটা ফাইনালের মতো, সেভাবেই আমরা মাঠে নামব। আমার কোনো সংশয়ই নেই যে, আমরা কোয়ালিফাই করব। আমরা বার্সেলোনায় যাব যুদ্ধ জয়ের প্রস্তুতি নিয়ে। যাব তীব্র তাড়না নিয়ে।’
১০ এপ্রিল পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বার্সেলোনার কাছে প্রথম লেগে ২-৩ গোলে হেরে যাওয়ার পর কথাগুলো বলেছিলেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে।
সত্যিই যুদ্ধটা জিতল পিএসজি মঙ্গলবার। তবে একটি ঘটনায় ৪-১ গোলের অনায়াস জয় হয়ে গেল প্যারিসিয়ানদের। প্রথম লেগের জোড়া গোলদাতা রাফিনহা ‘লড়াইটা’ ৪-২ করে নিয়েছিলেন এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিসে কিক অফের ১২ মিনিটেই গোল করে। তখন ফেভারিটই মনে হচ্ছিল বার্সেলোনাকে।
কিন্তু ২৯ মিনিটে মাথায় বাজ পড়ে বার্সেলোনার। পিএসজির তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলাকে বক্সে ঢোকার মুখে পেছনে থাকা রোনাল্ড আরাউহো হালকা ধাক্কা দিলে রুমানিয়ান রেফারি লালকার্ড দেখান উরুগুয়ান ডিফেন্ডারকে। হতভম্ব হয়ে পড়ে বার্সেলোনা। আধঘণ্টাতেই ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বার্সা যে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে, সেটা তখনই আঁচ করা গিয়েছিল।
৪০ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে সেই ধারণাকে সত্যি করেন উসমান দেম্বেলে। মৌসুমের শুরুতে বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়া ফরাসি ফরোয়ার্ডের জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে সব ধরনের আয়োজন করে রেখেছিল কাতালান ক্লাবটির সমর্থকরা। কেউ কেউ দেম্বেলের বিকৃত করা মুখের ছবি নিয়ে মাঠে আসেন, অনেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো দিতে থাকেন। কিন্তু কোনো কিছুই দেম্বেলেকে টলাতে পারেনি।
নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম লেগে খেলতে না পারা আশরাফ হাকিমি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঝলক দেখান। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে হাকিমির কাছ থেকে বল পেয়েই পিএসজিকে এগিয়ে দেন ভিতিনহা।
একে তো দল পিছিয়ে পড়েছিল, তার ওপর দলের খেলোয়াড়দের একের পর এক কার্ড দেখিয়ে যাচ্ছিলেন রেফারি। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা জাভি চতুর্থ অফিশিয়ালের সামনেই একটি বিজ্ঞাপনী বোর্ডে লাথি মেরে বসেন। এ ঘটনায় জাভিকেও লাল কার্ড দেখিয়ে ডাগআউট থেকে তাড়িয়ে দেন রেফারি। প্রতিবাদ জানাতে গেলে লাল কার্ড দেখতে হয় বার্সার গোলকিপার কোচ দে লা ফুয়েন্তেকেও।
কিছুক্ষণ পর বার্সার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। জোয়াও কানসেলো দেম্বেলেকে নিজেদের বক্সে ট্যাকল করে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। সফল স্পট কিকে প্যারিসের ক্লাবটিকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে।
৭৩ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রবার্ট লেভানডফস্কি। পিএসজি গোলকিপার জিয়ানলুইগি দোন্নারুম্মাকে একা পেয়েও ফাঁকি দিতে পারেননি লেভা। তার শট দোন্নারুম্মা রুখে দিলে বল পেয়ে যান ফেরান তোরেস। তার ফিরতি শটে বল বিপদমুক্ত করেন পিএসজি অধিনায়ক মার্কিনিওস।
একে তো সময় শেষ হয়ে আসছিল, তার ওপর একাধিক গোলের সুযোগ হাতছাড়া সব মিলিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে বার্সা। ম্যাচের শেষ দিকে পিএসজি সেই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করে। ৮৯ মিনিটে দ্রুত প্রতি আক্রমণে ওঠে দলটি। এমবাপ্পে ও মার্কো আসেনসিওর প্রচেষ্টা বার্সা গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন রুখে দিলেও ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হন। বলটা আবারও আসে এমবাপ্পের পায়ে। এবার তিনি আর ভুল করেননি। কাছাকাছি দূরত্বে থেকে ডান পাশের কোনায় নেওয়া নিচু শটে বার্সার জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে।
গোল তো নয় যেন কফিনে শেষ পেরেক! ৮৯ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন পিএসজির চতুর্থ গোলটা করলেন, বার্সেলোনার শোকবিহ্বল সমর্থকদের শুকনো মুখগুলোর দিকে তখন তাকানো যাচ্ছিল না। সমর্থকদের কেউ কেউ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন। ওই গোলেই যে বিদায়ের বিউগল বেজে গিয়েছিল তাদের মনে।
