উপজেলা নির্বাচন

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কক্সবাজার ভ্রমণের প্রলোভন প্রার্থীর

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪০ এএম

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এক অনুষ্ঠানে ডেকে আবারও নির্বাচিত হলে তাদের কক্সবাজার ভ্রমণের আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও অপর একটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের অর্থ দেওয়ার ঘোষণাও দেন ওই প্রার্থী। তার এমন ঘোষণায় নানা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য প্রার্থীরাও।

এলাকাবাসী, প্রার্থীর সমর্থক ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ২১ মে কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী মাঠে একাধিক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন সিকদার গত মঙ্গলবার দুপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কৌশলে আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে উপজেলার কালামপুর এলাকায় সোহাগ পল্লী পিকনিক স্পটে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও ঈদ পুনর্মিলনীর নামে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের নামে সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ডেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা করেন ওই প্রার্থী। এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী। এই নির্বাচনে আরও দুই-তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন। আপনারা বিচার-বিশ্লেষণ করে আমাকে সহযোগিতা করবেন। যদি আমি আবারও নির্বাচিত হতে পারি তাহলে তিন মাসের মধ্যে অবশ্যই প্রত্যেক শিক্ষক পরিবারকে নিয়ে দুদিনের জন্য কক্সবাজারে সফর করা হবে।’

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে তার এমন ঘোষণায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এদিকে আসন্ন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও অপর একটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের অর্থ দেওয়ার ঘোষণাও দেন ওই প্রার্থী। এসব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য প্রার্থীরা।

মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরা নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকি। তবে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এভাবে নির্বাচনী প্রচারণা করবেন আগে জানলে আমরা যেতাম না।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কমিশনার মো. হাফিজুর রহমান। আচরণবিধিতে উল্লেখ আছে, সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

নির্বাচনের আগমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর শিক্ষকদের ডেকে এনে এ ধরনের প্রলোভন দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত