ফিলিস্তিনের সদস্যপদ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আজ ভোট

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪২ এএম

গাজার মাঘাজি শরণার্থীশিবিরে খেলার মাঠ ও বাজারে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল কমপক্ষে ৫৬ জনকে হত্যা করেছে। সামগ্রিক মৃত্যুসংখ্যা ৩৪ হাজার ছুঁইছুঁই। ইসরায়েলি আগ্রাসনে অব্যাহত নৃশংসতার মধ্যে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হবে কি না, তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হবে। আবার ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-বন্দি মুক্তির আলোচনা স্থবির হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, ইসরায়েল গাজার মাঘাজি শরণার্থীশিবিরের খেলার মাঠ ও বাজারে হামলা চালিয়ে ৫৬ জনকে হত্যা করেছে। এর মধ্য দিয়ে গাজায় ফিলিস্তিনি মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩ হাজার ৮৯৯। এর মধ্যে গাজায় খাদ্য পৌঁছাতে দিতে নানা প্রতিবন্ধকা সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

গাজায় ইসরায়েলের চলতি অভিযানের মধ্যে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘে দেশটির পূর্ণ সদস্যপদের জন্য তোড়জোড় শুরু করে। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোটাভুটি হবে নিরাপত্তা পরিষদে। বিভিন্ন কূটনীতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ তাদের পুরনো আবেদন পুনরুজ্জীবিত করে। ২০১১ সালে তারা সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল।

জাতিসংঘের সদস্যপদ পেতে হলে প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেতে হবে। সেখানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করলে গোটা বিষয় ভেস্তে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে, তারা ফিলিস্তিনের এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ভেটো দেবে। তার পরও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে চায়। নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়ার পর সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলে জাতিসংঘভুক্ত হয় কোনো দেশ।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য আলজেরিয়া এসংক্রান্ত খসড়া প্রণয়ন করেছে। এতে সাধারণ পরিষদের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে যাতে সেখানে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অনুমোদন করা হয়। সাধারণ পরিষদের ১৯৩ দেশের মধ্যে ১৩৭টি ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের এই উদ্যোগের মধ্যে গাজার যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা কাতার জানিয়েছে, দুই পক্ষের আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল থানি গতকাল বলেন, ‘আমরা স্থবিরতার একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এসে পৌঁছেছি। স্থবিরতা কাটানোর জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত