চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অতিরিক্ত ফ্লাইটগুলোর অনুমোদন স্থগিত করতে জো বাইডেন প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা ও ইউনিয়নগুলো। বেইজিংয়ের ‘প্রতিযোগিতা বিরোধী নীতি’ মার্কিন বিমান সংস্থা এবং এর কর্মীদের ক্ষতি করছে উল্লেখ করেই এই আহ্বান জানিয়েছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং পরিবহন মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বেইজিংয়ের প্রতিযোগিতা বিরোধী নীতি মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান সংস্থার প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার কর্মীর ক্ষতি করছে। চিঠিতে সই করেছে শিল্প লবি গ্রুপ এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা। এর সদস্যদের মধ্যে রয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এবং ইউনাইটেডসহ এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য ইউনিয়ন।
তারা চীন থেকে নতুন কোনো ফ্লাইট যুক্ত করতে নিষেধ করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, যদি চীনের এভিয়েশন বাজারের প্রবৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চলতে থাকে এবং তাদের বাজারে প্রবেশাধিকারের সমতা ও উদ্বেগ ছাড়াই চলতে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে মার্কিন কর্মী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত নভেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও জো বাইডেনের বৈঠক হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়ে ‘ঐকমত্যে’ পৌঁছায় তারা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইট বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে।
ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন বলেছিল, তারা চীনের বিমান সংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাড়ানোর অনুমতি দেবে, আর তা করোনা মহামারি থেকে বিমান পরিষেবা পুনরুদ্ধারের প্রয়াসে। গত ৩১ মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক ৫০টি রাউন্ড ট্রিপ করার অনুমোদন পেয়েছে চীনের বিমান সংস্থাগুলো, যা ৩৫ থেকে বাড়ানো হয়েছে। তবে বর্ধিত সংখ্যাটি এখনো মহামারীর আগে উভয় পক্ষ দ্বারা অনুমোদিত ১৫০টিরও বেশি সাপ্তাহিক রাউন্ড ট্রিপের ভগ্নাংশ মাত্র।
চিঠিতে মার্কিন বিমান সংস্থা উল্লেখ করেছে, চীন মহামারী চলাকালীন তাদের বাজারে প্রবেশে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করেছে, যার আওতায় পড়েছে মার্কিন বিমান সংস্থা, গ্রাহক ও কর্মীরা। এছাড়াও তারা রাশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ অব্যাহত রেখেছে, যা মার্কিন সংস্থাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে চলার কারণে ফ্লাইটের সময় এবং খরচ বাড়লেও এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা ঘোষণা করেছে, মার্কিন নাগরিকদের অজান্তেই রাশিয়ার সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকির শিকার হওয়া উচিত নয়। এই অনুশীলনের অবসান হওয়া উচিত। তারা বলছে, মার্কিন বিমান কর্মী, শিল্প এবং ভ্রমণকারীদের সুরক্ষার জন্য সরকারের একটি নীতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
বন্যায় দুবাই বিমানবন্দরে ১২৪৪ ফ্লাইট বাতিল