নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বিহারকোল বাজার থেকে প্রধান সড়কের দুই ধারে বেশ কিছু মরা গাছ দাঁড়িয়ে আছে কয়েক বছর ধরে। গাছগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। চলতি বৈশাখ মাসে যখন তখন কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ঝড়ে গাছগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মরা গাছগুলো দ্রুত সড়কের পাশ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিহারকোল মোড় থেকে যুগিপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের দুইধারে ১৫ থেকে ২০টি মরা গাছ দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর কোনোটির ভেতরে ঘুনে ধরে অন্তঃসারশূন্য অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোনোটি আবার স্থানীয় অসাধু লোকজন কেটে নেওয়ার জন্য গোড়ার অর্ধেক কেটে রেখেছে। কয়েকটি গাছের সঙ্গে বিদ্যুতের তার ঝুলছে, আবার কয়েকটি গাছের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় রকমের দুর্ঘটনা।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল কুমার রায় বলেন, ‘আমি একাধিকবার উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটিকে এ গাছগুলো অপসারণের কথা জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ওই রাস্তা হয়েই প্রতিদিন বাড়ি থেকে বাজারে আসি। কিন্তু ভয়ে থাকি কখন যে কার মাথায় গাছগুলো ভেঙে পড়ে। একটি গাছ তো হেলে রাস্তার ওপর পড়ে আছে তিন থেকে চার বছর। গাছের ওপর ঝুলে আছে বিদ্যুতের তার। এটাতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায় কে নেবে।’
বিহারকোল বাজারের ব্যবসায়ী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, ‘গাছগুলো প্রধান সড়কের ধারে হওয়ায় পথচারী ও যানবাহনে চলাচলকারীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। এখন ঝড় ঝাপটার সময়। দুর্ঘটনা ঘটতে তো সময় লাগে না। তাই গাছগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন।’
জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। এ আবেদন নিয়ে বন বিভাগে গিয়ে পাস করিয়ে তারপর আবার জেলা পরিষদে জমা দিতে হবে, অনেক ঝামেলা আছে।’
উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ বি এম আবদুল্লাহর সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাইমেনা শারমীন বলেন, ‘গাছগুলো যেহেতু জেলা পরিষদের, আমাদের কিছুই করার নেই। তারপরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে গাছগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’
