ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাসে ছুটি পেছালো রাবি প্রশাসন 

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪২ পিএম

দেশজুড়ে চলমান তাপদাহের কারণে ইতিমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাসে না গিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চলমান রেখেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতির স্ট্যাটাসের জেরে ছুটির সূচি পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার (২৪ এপ্রিল) হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে  সর্বসম্মতভাবে চলমান গ্রীষ্মকালীন ছুটি পিছিয়ে ঈদুল আজহার সঙ্গে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রণব কুমার পান্ডে ছুটি পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মাকালীন অবকাশ ৫ থেকে ৯ মে এবং ১৬ থেকে ২৪ জুন ঈদুল আজহার ছুটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। কিন্তু চলমান তাপদাহের কারণে পানি সংকটের আশঙ্কা এবং শিক্ষার্থীদের এতদসংক্রান্ত নানাবিধ অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ছুটিসমূহ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পুনর্বিন্যাস্ত ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ ৯ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত এবং অফিসসমূহ ৯ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ৩০ জুন থেকে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া গত ২১ এপ্রিল জরুরি সভায় ২ মে ক্লাস বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটি প্রত্যাহার করা হয়। বিভাগসমূহ প্রয়োজনবোধ করলে ৬ জুন পর্যন্ত অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের ফেসবুক গ্রুপে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু গ্রীষ্মের ছুটি ঈদুল আজহার সঙ্গে সমন্বয় করার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের ছুটি, গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবং ঈদুল আজহার ছুটি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টানা তিন মাস ভেঙে ভেঙে ছুটির সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষার নিয়মিত ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং বারবার বাড়িতে আসা যাওয়া করায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পহেলা মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত যে গ্রীষ্মকালীন ছুটি আছে এটা যদি ঈদুল আজহার ছুটির সাথে সমন্বয় কার যায় তাহলে কেমন হবে বিষয়টা? আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করছি।’

ছাত্রলীগ সভাপতির এমন স্ট্যাটাসের পরের দিনেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মিলে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ছুটি পেছানোর খবরটি প্রচার হওয়ার সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের দাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুরোধের কারণেই এই ছুটি পেছানো হয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগ কর্মী শামছুল আরেফিন খান সানি বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব ভাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গ্রীষ্মকালীন ছুটির বিষয়টি পুনর্বিন্যাস করার জন্য দাবি জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাবি প্রশাসন এই বিষয়টির যথার্থতা বিবেচনা করে ছুটি পুনর্বিন্যাস করেছে।’  

তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘এই কাঠফাটা রোদে, তীব্র দাবদাহে, হাঁসফাঁস গরমে আর বিদ্যুতের বাদরামির মধ্যে পূর্বনির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে ঈদের ছুটি বাড়ানো হলো। বাহ! ভাবতেই কি ভালো লাগছে! ঈদের লম্বা ছুটির আনন্দে বাতাসে শরীর শীতল হয়ে আসছে! রোদ্রস্নান করে শরীর একটু ঠাণ্ডা করে নিতে মন চাইছে!’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এই ছুটি পেছানোর কথা বলেছিল। পরে তিনি এ বিষয়ে  বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গ্রুপে একটা পোস্ট দেন। সেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ছুটি পেছানোর পক্ষে মন্তব্য করেছেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি তাদের অনুরোধ করেছেন যাতে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ছুটি পেছানো হয়। প্রশাসনের কাছেও হয়তো মনে হয়েছে ছুটি পেছানো দরকার। তাই প্রশাসন এই ছুটিটা ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করেছে।’

তবে ছাত্রলীগের অনুরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চলমান দাবদাহ, পানির সংকট, ঘনঘন ছুটি ও শিক্ষার্থীদের নানাবিধ অসুবিধার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে কারও অনুরোধ বিবেচনা করা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত