'এই অইদের (রোদ) ঠ্যালায় জানটা ব্যার হয়া যাবার নাগছে বাহে! গরিম মানুষ বাঁচে কেমন করি। জারের (শীত) সমায় (সময়) কনকনা ঠান্ডা আর গরমের সমায় গরম। হামরা ঘর থাকি ব্যার হওয়া যায় না। জানটা শ্যাষ (শেষ) হয়া গেইল।' কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বসুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রবাহে সৃষ্ট দাবদাহে অতিষ্ট লালমনিরহাটের জনজীবন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ক্রমশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আগুন ঝরা বাতাসে নারী-শিশুসহ কর্মজীবী মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট পাটগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা কম, জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাহিরে বের হচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় আদিতমারী বাজারের ভ্যানচালক সিরাজুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বৈশাখের চনচনা অইদোত (রোদে) মালা নিয়া ভ্যান চালাইতে কষ্ট হয়। গরমের ঠ্যালায় কইলজা ফাটি যায়। ওই জন্যে ঠান্ডাত (গাছের ছায়া) একনা দম নিবার নাগছি।
রিকশাচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে আয় রোজগার কমে গেছে। বেলা সাড়ে দশটা থাকি এগারটার পর রাস্তায় আর কোনো যাত্রী থাকে না।
বাসচালক রমজান আলী জানান, গরমের কারণে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ (বিটুমিন) উঠে গাড়ির চাকার সাথে লেগে যাচ্ছে। এতে খুব সতর্ক অবস্থায় গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমজান আলী জানান, গরমে শিশু ও বয়স্করা ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দৈনিক শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলার প্রতিটি হাসপাতালে শিশু রোগী ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ, যথাসম্ভব বাহিরে বের না হওয়া, সাথে খাবার পানি রাখা, ছাতা ব্যবহারে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটে তাপমাত্রা ৩৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রা আরো বাবে বলে জানান তিনি।
লালমনিরহাট জেলা তথ্য অফিসার শাহজাহান আলী (অতিরিক্ত দায়ত্বি) জানান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে জেলার সর্বত্র সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসতে মরিয়া: ওবায়দুল কাদের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি, শনিবারও চলবে ক্লাস