পশ্চিমা বিশ্বে রাশিয়া ও চীনের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত যেন বিষয়টিকে আরও বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই নানা অভিযোগ শোনা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বিষয়টি রীতিমতো শঙ্কার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইইউ নির্বাচনেও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় নেতৃত্বের জন্য বিষয়টি আতঙ্কের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। কারণ খোদ ইউরোপীয় আইনসভায়ই রুশ-চীনা প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়ার অভিযোগ করছে পশ্চিমা নেতারা। ইইউ আইনসভায় লাটভিয়া থেকে নির্বাচিত সদস্য টাটিয়ানা আশডানোকা কয়েক বছর ধরে রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে এ বছরের শুরুতে অভিযোগ ওঠে। গত মাসে চেক প্রজাতন্ত্র ‘ভয়েস অব ইউরোপ’ শীর্ষক একটি সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ সংস্থাটির বিরুদ্ধে রুশসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্দা ডে ক্রো জানান, ইইউ আইনসভায় রুশপন্থি প্রচারণা চালাতে অর্থ পেয়েছে কয়েকজন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা।
এ সপ্তাহে জার্মানির ‘উগ্র ডানপন্থি’ মতাদর্শের ইউরোপীয় এমপি মাক্সিমিলিয়ান ক্রাহর সহকারী জিয়ান জি-কে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। জার্মানির নাগরিক জিয়ান জি. চীনা গোয়েন্দাদের হয়েও কাজ করতেন বলে তদন্তকারীরা দাবি করছেন। এই ঘটনার পর গত বুধবার ক্রাহর বিরুদ্ধেও প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে রশিয়ার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার হন।
ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলোতে রুশভীতি বেড়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম ১১ মাসে প্রায় ৫০০ রুশ কূটনীতিককে বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে ‘পোলিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (পিআইএসএম)’-এর কর্মকর্তা এলসবিয়েটা কাসা বলেন, ইইউ জুড়ে রুশ গুপ্তচরবৃত্তি চললেও ইউরোপে ন্যাটোর অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক সংস্থার দপ্তরগুলোয় রুশরা বেশি সক্রিয়।
