নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় ও সেচের পানির তীব্র সংকট। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার সাধারণ ও অগভীর প্রায় সবকটি নলকূপে এখন পানি উঠছে না। উপজেলায় প্রায় ৩৩ হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে আছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয় ও উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় বলছে, উপজেলার প্রায় ৩৩ হাজারের বেশি সাধারণ ও অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৫ ফুটের বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় এলাকায় সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র তারাপাম্প, মডিফাইড ও সাবমার্সিবলগুলো দিয়েই এ এলাকার সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। শুকিয়ে গেছে উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বড়াল ও মুসা খাঁ নদী। পানি নেই খাল-বিলেও। শুধু গভীর নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্পে যে পানি পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে পান ও সেচের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। একে তো প্রচ- গরম তার মধ্যে এখন পানির জন্য হাহাকার পড়েছে উপজেলা জুড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পানির হাহাকারে জনজীবন কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন। উপজেলার আরজিমাড়িয়া, সোনাপাতিল, গালিমপুর, লোকমানপুর, রহিমানপুর, দেবনগর, সাইলকোনা, দয়ারাপুর, বাটিকামারী, ক্ষিদ্রমালঞ্চি, কালিকাপুর, জিগরী, তমালতলা, বিলগোপালহাটি, স্বরূপপুর, চকমাহাপুর, কামারপাড়া, জামনগর এবং পাঁকা এলাকায় পানির জন্য তীব্র হাহাকার দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত বছরও শুষ্ক মৌসুমে উপজেলায় পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। চলতি বছর এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এলাকার প্রায় সব কয়টি সাধারণ নলকূপ ও ইঞ্জিনচালিত অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। শুষ্ক আবহাওয়ায় পানি না পেয়ে আম ও লিচুর মুকুল ঝরে যাচ্ছে। ধানের জমিতে চিটা হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। প্রায় ধানের জমিতেই রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়েছে।
এলাকায় যেসব বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে সাবমার্সিবল পাম্প আছে সকাল-সন্ধ্যায় সেখানে পানি নেওয়ার জন্য পড়ছে দীর্ঘ লাইন। কেউ কেউ দূর থেকে ভ্যানে করে পানি নিয়ে যাচ্ছেন।
বাড়ির টিউবওয়েলগুলোর মতো অকেজো মাঠের যন্ত্রচালিত অভীর নলকূপগুলোও।
উপজেলা সদর ইউনিয়ন বড়পুরিয়া এলাকার ধানচাষি সাবাজ আলী (৬০) জানান, তার বড়পুরিয়া, ঠেঙ্গামার মাঠে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে দুটি অগভীর নলকূপ আছে। কিন্তু কোনোটিতেই পানি উঠছে না। তাই বাধ্য হয়ে ১০ ফিট গর্ত করে মেশিন নিচে নামিয়ে পানির ব্যবস্থা করছেন। তাও আগে যেখানে ১ বিঘা জমিতে পানি দিতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগত এখন সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।
উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম লেলিন বলেন, সাধারণ টিউবওয়েলগুলোতে এখন আর পানি উঠছেই না।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি নেই তারপর প্রচন্ড খরা হওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে উপজেলা জুড়েই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির বিকল্প নেই।
