এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হঠাৎ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতা শুরুর ছয় মাস পর চলমান এই অস্থিরতার মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে এবং গোটা বিশ্বের নজর এখন এই বিক্ষোভে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা সিএনএন জানাচ্ছে, ক্যাম্পাস অনুযায়ী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট দাবির ভিন্নতা থাকলেও তাদের মূল দাবি—ইসরায়েলভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যবসার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পর্ক ছিন্ন করা, যেসব কার্যক্রম থেকে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে লাভবান হচ্ছে ইসরায়েল।
যদিও বিক্ষোভকারীদের এই দাবির প্রতি এখনো কোনোপ্রকার সমর্থন বা সহানুভূতি প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদেরও দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরায়েলি পণ্যের ব্যবসা বা বিনিয়োগ বন্ধ হলে তাতে তাদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইসরায়েলি বিনিয়োগ চিত্র প্রকাশ, ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন ও গাজায় যুদ্ধবিরতিকে সমর্থনের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভে অনড়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালানো ইসরায়েলের বিভিন্ন কোম্পানির সমস্ত বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে বলেছি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় না আনারও দাবি জানান তারা।
ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্ষোভের জেরে অনেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের 'পূর্ণ ক্ষমা' দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। ক্যাম্পাসে পুলিশি তৎপরতা বন্ধের দাবি তাদের।
বিক্ষোভকারীরা আরো কিছু দাবি জানাচ্ছেন, যেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থানীয় বিষয় সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয় ১৭ এপ্রিল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্ক বর্জনের ডাক দিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা চান, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তেল আবিবে তাদের ক্যাম্পাসের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখুক এবং তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম বাতিল করুক।
সূত্র : সিএনএন
