টানা তাপপ্রবাহে পুড়ছে সারা দেশ। সিলেটে তাপমাত্রা সে তুলনায় কম থাকলেও দুই দিন ধরে বাড়ছিল তাপমাত্রা। এরই মধ্যে সেখানে নেমেছিল স্বস্তির বৃষ্টি। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঝড়, বজ্রপাত, দমকা হাওয়াসহ নামে বৃষ্টি। ফলে দ্রুত কমে যায় গরমের রেশ।
এদিকে সিলেটের বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে এলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাজুড়ে টানা দুই ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি ডেকে নিয়ে আসে জনদুর্ভোগ। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক বাড়িঘর। গতকাল শনিবার ভোরের এই কালবৈশাখীতে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙেছে, তার ছিঁড়ে গেছে। এতে উপজেলার বেশ কিছু স্থানে গতকাল ভোর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
সিলেটে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই মৃদু শীতল হাওয়া বইছিল। সন্ধ্যার আবহাওয়াই জানান দিচ্ছিল রাতে বৃষ্টি হওয়ার। আর কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা মেলে রাত ১১টায়। বৃষ্টির সঙ্গে ছিল দমকা হাওয়া। রাত ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টি চলছিল। তবে কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কেন্দ্র থেকে জানা সম্ভব হয়নি।
এর আগে শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। সঙ্গে বজ্রবৃষ্টিরও আভাস ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাস সত্য প্রমাণ করে রাত ১১টায় শীতল পরশ নিয়ে সিলেটে নামে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে অনেকের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ-বাঁশ ঘরের ওপরে পড়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে ক্ষতিগ্রস্তরা।
উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ময়নুল মিয়া, খুশবা বেগম, নইনারপার এলাকার মালেকা বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকজন জানান, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টি হয়। ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘর উড়ে যায়। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচুর পরিমাণ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক মীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৭২টি স্থানে তার ছিঁড়েছে, খুঁটি ভেঙেছে ৪টি, গাছ ও বাঁশ লাইনে পড়েছে ২১৮টি জায়গায় ও মিটার ভেঙেছে ৩২ গ্রাহকের। এসব জায়গায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়নাল আবেদীন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দেওয়ার জন্য। দ্রুত সময়ে তাদের সহোযোগিতা করা হবে।
