মে দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও র্যালি করবে বিএনপি। দলের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল এ সমাবেশ ও র্যালির আয়োজক। আজ বুধবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত র্যালি করে যেতে চায় সংগঠনটি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা জানান। এর আগে সমাবেশে উপলক্ষে একটি যৌথ সভা করা হয়।
রিজভী বলেন, ‘মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দল আগামীকাল (আজ বুধবার) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করবে এবং সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য শ্রমিক র্যালি নয়াপল্টন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এ বিষয়ে শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।’
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান রিজভী। তিনি জানান, শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি সংবলিত লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন করা হয়েছে। পাঁচটি উপকমিটি কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, শিমুল বিশ^াস, সরাফত আলী সফু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি সূত্র বলেছে, রাজধানী এবং পাশের জেলা, মহানগর ও শিল্পাঞ্চলের নেতাকর্মীরা ‘শ্রমিক সমাবেশে’ অংশ নেবেন। বড় জমায়েতের লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশ সফল করতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। শ্রমিক সমাবেশ ছাড়াও ২ মে শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৪ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভাসহ পৃথক কর্মসূচি করবে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, মূলত ঢাকার শ্রমজীবী মানুষকে টার্গেট করে এ সমাবেশ করার পরিকল্পনা থাকলেও ঢাকার আশপাশের গাজীপুর শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ থেকেও নেতাকর্মীরা আসবেন। ঢাকার বিভিন্ন সেক্টরের বাইরে অসংগঠিত শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে সংগঠিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সার্বিক সমন্বয়ে রয়েছেন।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সারা দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আপনারা (আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী) এসি ব্যবহার করে ঘরে বসে আছেন। সাধারণ মানুষের কথা একটু ভাবুন। স্কুল-কলেজ বন্ধ করার কথা শিক্ষামন্ত্রীর, কিন্তু বন্ধ করতে হচ্ছে আদালতকে। এ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। কেন শিক্ষামন্ত্রী স্কুল খোলা রেখেছেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।’
সংগঠনের সভাপতি মনজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দলের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ (আজাদ সিদ্দিকী), বিএনপির সহ-তথ্য সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা নেসার উদ্দিন প্রমুখ অংশ নেন।
