মাধবপুরে কেন এত দুর্ঘটনা?

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৬:০৫ পিএম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর-শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,  গত এক বছরে এই সড়কে ছোটবড় ৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত শতাধিক মানুষ  নিহত ও আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় বহু লোক পঙ্গুত্ব বরণ করে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশ ও মাধবপুর ট্রাফিক জোন জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চালক, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা সমাবেশ এবং প্রচারপত্র বিলি করেছে। কিন্তু তেমন কাজে আসছে না এসব প্রচারনায়। 

বুধবার (১ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাধবপুরের ঢাকা সিলেট মহাসড়কের হরিতলা এলাকায় ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি বদরুল কবির। 

নিহত সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী। তাদের বাড়ি বরিশালে। তারা হযরত শাহজালালের মাজারে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মোজ আলীর ছেলে জালাল (৪০), তার স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩৫), ছেলে অনন্ত (১২), জালালের ভাই এনামুল (৩৫) ও প্রাইভেটকারের চালক বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা গ্রামের ইউনুছ বেপারীর ছেলে হারুন বেপারী (৩৪)।

সম্প্রতি সারাদেশে ১১৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে। দুর্ঘটনার ধরণ ও মাত্রা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৫১টিকে অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ৬৩টিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ওই তালিকায় হবিগঞ্জের মাধবপুরকে অতি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাধবপুর থেকে অলিপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বিস্তৃত মহাসড়কে রতনপুর আল আমিন ফুড ফেয়ার নামক হোটেলের একটু দক্ষিণে একটি বিপজ্জনক মোড়সহ অন্তত ৬টি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করেছে। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হবিগঞ্জ অফিসের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম হাফিজ দুর্ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত টমটম চলাচল বন্ধ করা গেলে এবং মহাসড়ক প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনা প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে তিনি মত দেন। 

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি বদরুল কবির জানান, চালকদের মধ্যে ওভারটেক করার প্রবণতা, ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কের এ অংশে দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। চালকের সচেতনতা দুর্ঘটনা রোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি জানান।

মাধবপুর ট্রাফিক জোনের পরিদর্শক জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, মূলত চালকদের মধ্যে ওভারটেক প্রবণতা আর অপ্রশস্ত রাস্তার কারণেই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। সবার সম্মিলিত সচেতন ভূমিকায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এরশাদ আলী জানান, চালকদের অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতাই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত