বৈশাখ মাসের ভোরে পৌষের কুয়াশা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৫:২৭ এএম

বৈশাখ মাসে পৌষের ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে যশোরের চৌগাছা। গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে মোড়ানো ছিল গোটা উপজেলা। অনেকেই মনে করছেন এ যেন পৌষের সকাল। অসময়ে এমন কুয়াশা দেখে অনেকেই হয়েছেন বিস্মিত। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, তীব্র তাপের কারণে মেঘ কুয়াশা আকারে নেমে আসে। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, গতকাল ভোরে অধিকাংশ এলাকাতে ছিল ঘন কুয়াশা। এর মধ্যে পাতিবিলা, ইছাপুর, সাদিপুর মুক্তদাহ, তেঘরী, জগদীশপুরে কুয়াশার দাপট ছিল বেশি। তবে সকাল ৮টার পর কুয়াশা কেটে গিয়ে শুরু হয় তাপপ্রবাহ।

জগদীশপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, গরমের এই তীব্রতার মধ্যে এমন কুয়াশা কখনো দেখিনি। মাঠে যাওয়া বন্ধ করে বাড়িতেই আছি। একই গ্রামের মজনুর রহমান, মো. বাবু, ইসহক আলী বলেন, কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কিছুই দেখা যাইনি। এই সময়ে বাইরে বিশেষ করে মাঠের কাজ বন্ধ রেখেছি।

তেহরী গ্রামের আব্দুল মালেক, আলতাফ হোসেন, আব্দুল আজিজ বলেন, গরমের সময় এমন ঘন কুয়াশা কখনো দেখেনি। ভোর রাতে রীতিমতো ভয় পেয়ে গেছি, ফজরের আজানের পর সব দিক পরিষ্কার হয়ে যায় অথচ শুক্রবার একই সময়ে আরও অন্ধকার হয়ে আসতে শুরু করে। পরে বুঝতে পারি কুয়াশার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  বাস, ইজিবাইক, মোটরচালিত ভ্যানচালকরা বলেন, সকাল বেলাতে হঠাৎ কুয়াশায় ঢেকে যায় রাস্তাঘাট। সড়কে এসে কুয়াশার কারণে কিছু সময় থেমে তারপর চলতে শুরু করি।

এ বিষয়ে খুলনা আবহাওয়া দপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, এটা হতে পারে। এখন আকাশে মেঘের ঘনঘটা। মেঘ কয়েক স্তরে ভাগ হয়ে অবস্থান করছে। যে অঞ্চলে ‘লো ক্লাউড’ সেখানে ‘সারফেজ’ গরম হওয়ার কারণে মেঘ কুয়াশা আকারে নেমে আসে। যেখানে ঘন মেঘ সেখানে নেমে আসে বৃষ্টি আকারে। যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকায় হচ্ছে।

চৌগাছা ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আল ইমরান বলেন, অসময়ে ঘন কুয়াশা স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। ঠান্ডা কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন মানুষ। কুয়াশায় মাস্ক পরাসহ বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত