‘কোনো প্রার্থীর মুখ দেখলাম না! কীসের ভোট?’

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৫:৫৪ এএম

এক দিকে টানা রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে, টানা কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাররা যথাযথ মর্যাদা না পাওয়ার কারণে এবারের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে মেহেরপুরের ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-আগ্রহ তেমন নেই বললেই চলে।

প্রার্থীরা বলছেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দিনে কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না। মানুষও বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। তাই এখনো সব গ্রামে যেতে পারিনি, পোস্টার ব্যালটও পৌঁছাতে পারিনি।’

অন্যদিকে ভোটাররা বলছেন, ‘কোনো প্রার্থীর মুখ দেখলাম না! কারা প্রার্থী তাও জানি না! এখন আবার কীসের ভোট হচ্ছে?’

আগামী ৮ মে মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলার মধ্যে মেহেরপুর সদর এবং মুজিবনগর উপজেলায় ভোট। এবারের নির্বাচনে সব প্রার্থীই আওয়ামী লীগের। তাই নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে অন্য দলের ভোটারদের মধ্যে কোনো আগ্রহ না থাকলেও আওয়ামী লীগের ‘গৃহযুদ্ধে’ হারজিত কার হবে তা নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই।

কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী দল কোনো প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন না দিলেও সব প্রার্থীই নিজেকে ‘দলের প্রার্থী’ বলে দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে খোদ আওয়া মীলীগ ভোটারদের অভিযোগ- আগের ভোটগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন যে কৌশলে হয়েছে, এই নির্বাচনেও তাইই হবে।

মেহেরপুর সদর উপজেলা : দলের আভ্যন্তরীণ নির্দেশ অমান্য করে এখানে আওয়ামী লীগের চার নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি আব্দুল মান্নান (ঘোড়া), জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম শাহিন (কাপ-পিরিচ), আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল ইসলাম (মোটর সাইকেল) ও কৃষকলীগ নেতা হাশেম আলী (আনারস)।

এ উপজেলায় চারজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের সন্তোষজনক উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন এই তাপদাহ উপেক্ষা করে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রমুখী করানো কঠিন হবে। এই নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম শাহিন এর সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল ইসলাম এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে অনুমান করছেন ভোটাররা।

নির্বাচন অফিস জানিয়েছে মেহেরপুরে পুরুষ ভোটারের চাইতে নারী ভোটার বেশি হওয়ায় প্রার্থীরা নারী ভোটারদের কেন্দ্রেমুখী করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মুজিবনগর উপজেলা : এই উপজেলায় জাতীয় নির্বাচনে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে উপজেলা নির্বাচনে। ফলে, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে মুজিবনগরের রাজনৈতিক মেরুকরণ অনেকটাই জটিল। দিনে রাতে নেতাদের অবস্থান এবং পক্ষ পরিবর্তন হওয়ায় এখানে নির্বাচনে জয়-পরাজয় হবে ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ মধ্যদিয়ে বলছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।

মুজিবনগর উপজেলাতে চারজন আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম তোতা (কাপ-পিরিচ), মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমাম হোসে মিলু (আনারস), আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান চান্দু (ঘোড়া) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান  (মোটরসাইকেল) প্রতীক।

ভোটারদের অনাগ্রহ কেন প্রশ্নে মেহেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন অপরিহার্য। নির্বাচন থেকে বিএনপির টানা অনুপস্থিতির কারণে নির্বাচনী ডামাডোল, উৎসব মানুষের কাছে থিতু হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলো ইনঅ্যাক্টিভ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য বিএনপিই দায়ী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত