টানা তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো লন্ডনের মেয়র হিসেবে যাত্রা শুরু হয় পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদের। এবারের নির্বাচনে তিনি ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে কনজারভেটিভ পার্টির সুসান হলকে পরাজিত করেছেন। লন্ডনবাসী তাকেই আবার তাদের নগরপিতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হতে পারে সাদিক খান বা লন্ডনের মেয়ররা কী কাজ করেন? বিবিসি জানাচ্ছে, লন্ডনের মেয়র হচ্ছেন পুরো যুক্তরাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতিবিদ। প্রতি বছরই তাকে শত শত কোটি টাকার বাজেট সমন্বয় করে লন্ডনকে সবার জন্যই একটু সুন্দর শহর রাখতে হবে।
বিবিসি বলছে, শহরের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত ও বৃদ্ধি করা এবং এব ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মেয়র সাড়ে ২০ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ পান সরকারের তরফে। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে তাকে দেখতে হয় নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থাটি। গণপরিবহনের ভাড়ার বিষয়টিও মেয়র নির্ধারণ করে দেন। এছাড়া নগরে চলাচলকারী গাড়িগুলোর মাধ্যমে হওয়া দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও মেয়রের কাঁধে থাকে।
এছাড়া নগরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত মেট্রোপলিটন পুলিশকে পরিচালনের দায়িত্বও কিছু কিছু দেখতে হয় মেয়রকে। নগরবাসীর জন্য সরকারি আবাসন নিশ্চিত করা বা যতটা সম্ভব নাগরিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মেয়রের। শহরে পরিচালিত ব্যবসা-বাণিজ্যে মেয়রের খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব না থাকলেও তার কিছু পরিকল্পনার ভিত্তিতেই বিভিন্ন প্রকল্প হয়ে থাকে।
এছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের সাংস্কৃতিক দিকটিও দেখভাল করতে হয় লন্ডনের মেয়রকে। বিবিসি বলছে, এমন অসংখ্য কাজ ও দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে আসলে লন্ডনে মেয়র রাজনৈতিকভাবে দক্ষ হয়ে ওঠেন।
সাদিক খানের আগে দুই মেয়াদে লন্ডনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করা কনজারভেটিভ নেতা বরিস জনজন এভাবেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে বরিসের মতো সাদিক খানও গুরুত্বপূর্ণ পদে গেলে কাজে লাগাতে পারবেন তার তিন মেয়াদের মেয়রের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে।
