কখনো কখনো প্রচন্ড ক্ষুধায় পেট ভরানোর জন্য অপছন্দের খাবারও খেতে হয়, তাতে পেট ভরলেও মন ভরে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়টাও ঠিক তেমনি। ম্যাচ জেতা হয়েছে, তাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১৫টিতেই জেতার কৃতিত্ব গড়া গেছে, কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ঠিক এক মাস আগে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে সেটাও স্পষ্ট হয়েছে।
নাজমুল হোসেন শান্ত আরও একবার টস জিতলেন এবং বোলিং নিলেন। চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গে দলের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যটা কেন যে পরখ করে নিচ্ছেন না সেটা তিনিই ভালো জানবেন। জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করল ১৩৮ রান। জাকের আলি অনিক একটা সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন জোনাথন ক্যাম্পবেলের, জীবন পেয়ে অভিষিক্ত এ ক্রিকেটার খেলেছেন ২৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংস, যেটা জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ। এ ম্যাচেও টপ অর্ডারের ভাঙনের পর ষষ্ঠ উইকেটে ৪৩ বলে ৭৩ রানের জুটি হলো, প্রথম ম্যাচেও রান এসেছিল নিচের দিকেই। জিম্বাবুয়েকে ১৩৮ রানে আটকে রাখার ম্যাচেও চার ওভারে সাইফউদ্দিন ৩৭ রান দিয়েছেন, তিনটি বাউন্ডারি আর একজোড়া ছক্কা হজম করেছেন কোনো উইকেট নেওয়া ছাড়াই। তাসকিন আহমেদ যথারীতি ভালো, এ মানের পেসার সামলানোর সামর্থ্য জিম্বাবুয়ের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানেরই নেই।
রান তাড়ায় লিটন খেললেন ২৫ বলে ২৩ রানের ইনিংস। দুটো বাউন্ডারি আর একটি ছক্কায় তার প্রতিভার ঝলক দেখা গেলেও বাকিটা সময় বেশ নিষ্প্রভ। বিশেষ করে লুক জঙ্গউইয়ের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে যেভাবে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দিলেন, সেটা দৃষ্টিকটু। সøগ সুইপ খেলতে গিয়ে দারুণ ক্যাচে আউট তানজিদ তামিমও। নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্ভাগ্য যে, সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মারা শটটা গেছে একদম বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে। জাকের আলির সামনে সুযোগ ছিল এমন একটা ম্যাচ শেষ পর্যন্ত থেকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার, সেটা পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ‘বুড়ো ঘোড়া’ মাহমুদউল্লাহই ভরসা। তার ওপর আস্থা রাখলে বেশিরভাগ সময়ই তিনি তার প্রতিদান দেন। কাল যেমন তরুণদের আগে সুযোগ দিলেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন, মাহমুদউল্লাহ হননি। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে কভার ড্রাইভ মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছেন মাহমুদউল্লাহ। অন্যপ্রান্তে তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত। তিন খানা চারের পাশাপাশি মেরেছেন দুটি বিশাল ছক্কাও। দলে নিজের অবস্থান আর গুরুত্বটা ক্রমেই সুদৃঢ় করছেন এ তরুণ।
১৩৮ রান তাড়া করে ৯ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেটা চট্টগ্রামে। এই জয়ে ইতিবাচক কোনো কিছু থাকলে সেটা বাংলাদেশের জয়, এ ছাড়া আর কিছু নয়। টি-টোয়েন্টিতে যে হারে রান হচ্ছে, আইপিএলে পাওয়ার প্লে’তে দলীয় ১০০ রান হয়ে যাচ্ছে সেখানে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে তুলনামূলক খর্বশক্তির দলের বিপক্ষে এমন খোঁড়া ব্যাটিং জয়ের আনন্দের সঙ্গে চিন্তার ভাঁজও উপহার দিচ্ছে। লিটন দাস এখনো সংগ্রাম করছেন, জোড়ায় জোড়ায় উইকেট পতন ঠেকানো যাচ্ছে না, টেলএন্ডাররা বড় জুটি গড়ে তুলছেন এসবই সতর্ক সংকেত। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে এই লুক জঙ্গউইর বদলে মাথিশা পাথিরানা, আনরিখ নরকিয়া, কাগিসো রাবাদা, জেরাল্ড কোয়েতজিদের বল খেলতে হবে লিটন, জাকের, শান্তদের। সাইফউদ্দিন যদি সুযোগ পান তাহলে আবারও তাকে বল করতে হবে ডেভিড মিলার এবং ত্রিস্টান স্টাবসসহ এবারের আইপিএলে আতঙ্ক হয়ে ওঠা হেইনরিক ক্লাসেনের বিরুদ্ধেও। তাসকিন ও শরিফুলকে গামবি-মারুমানিদের বদলে কুশল মেন্ডিস, কুইনটন ডি কক, এইডেন মার্করামের বিরুদ্ধে বল করতে হবে। দেড়শরও কম রান তাড়া করে ১৯তম ওভারে জিতে সেই প্রস্তুতি কতটা হচ্ছে এটাই বড় প্রশ্ন বিশ্বকাপের আগে।
