প্রায় সাত মাস ধরে গাজায় লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি, যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে গাজায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল।
যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ছে অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, কানাডা, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হচ্ছে। সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতেও। লন্ডন, প্যারিস, রোম থেকে সিডনি, টোকিও, নয়াদিল্লি, বৈরুত সবখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি একটাই ফিলিস্তিনে, গাজায় গণহত্যা বন্ধ হোক।
ফিলিস্তিনপন্থি এ আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন বিক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রত্যেক ক্যাম্পাসে পদযাত্রা ও সমাবেশ করার কথাও বলেছে সংগঠনটি। ছাত্রলীগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মাঠে নামছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল রবিবার সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। সমাবেশ শেষে তারা বিক্ষোভ র্যালি নিয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে আবার রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ফিরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে সমাবেশ শেষ করেন। সমাবেশ ও র্যালিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সেøাগান দেন। তারা পৃথিবী জুড়ে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে, মানবতার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ফিলিস্তিনি মানুষ ও আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, ‘সংহতি সমাবেশে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি জানান দেয় যে, বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের প্রতি সংবেদনশীল। এটা শুধু ফিলিস্তিনের পক্ষের লড়াই নয় বরং এটা সারা বিশ্বের আর্তমানবতার জন্য লড়াই।’
আইন বিভাগের শিক্ষক নকিব নাসরুল্লাহ বলেন, ‘নেতানিয়াহু এবং এ যুদ্ধের মদদদাতা বাইডেন যুদ্ধাপরাধী। আমরা আমেরিকার মানুষের বিরুদ্ধে না। ফিলিস্তিনের পক্ষে পুরো বিশ্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এতে শরিক হওয়া উচিত।’
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন, পদযাত্রা ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সোমবার বেলা ১১টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় তারা।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থী সমাজ, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা যে আন্দোলনের সূচনা করেছেন, তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আমরা আগামীকাল থেকে জোরদার ছাত্র আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছি। আগামীকাল বেলা ১১টায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন, পদযাত্রা এবং সংহতি সমাবেশ হবে। ফিলিস্তিনের ওপর গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।’
