বিশ্বকাপে খেলতে যাবার আগে ঘরের মাঠে সবশেষ সিরিজ, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে যারা ২০ দলের বিশ্বকাপেও নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইটে চড়ার আগে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বসলে সেটা স্পষ্টই হৃদয় ভাংতো দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের। আশঙ্কা জাগলেও শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যেতে হয়নি তাওহিদ হৃদয়ের জন্যই। তার ৩৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংসেই মুখরক্ষা, সবচেয়ে বড় কথা এই সিরিজে বাংলাদেশের একমাত্র হৃদয়ের ব্যাটিং দেখেই মনে হচ্ছে ম্যাচটা টি-টোয়েন্টি।
লিটন দাসের ব্যর্থতার মিছিল আর নাজমুল হোসেন শান্ত’র ফর্মহীনতা; ব্যাট হাতে দুটোই এখন পর্যন্ত সামাল দিয়েছেন হৃদয়। অপরাজিত ৩৩, অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংসের পর কাল পেলেন হাফসেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম। ৯ রানে জেতা ম্যাচে প্রতিটা রানই গুরুত্বপূর্ণ, তবে চতুর্থ উইকেটে হৃদয় আর জাকের আলি অনিকের ৫৮ বলে ৮৭ রানের জুটিটা না হলে যে সাগরিকায় হৃদয়ভাঙ্গার গল্পই লেখা হত, সেটা নিশ্চিত ভাবেই বলে দেয়া যায়। ম্যাচশেষে সাংবাদিকদের সামনে আসা হৃদয়ের আক্ষেপ ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে না পারার, ‘মনে হয় ১০ রান কম করেছি। উইকেটটা আজকে একটু স্লো ছিল। আমরা এই উইকেটে প্রথম ম্যাচ খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে উইকেটে ১৭০- যে স্কোরটা করেছি ওটাও কিন্তু খারাপ না। হয়তো বা শেষের দিকে ওদের ব্যাটাররা ভালো রান করেছে তাই এরকম মনে হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমি এমন জায়গায় ব্যাটিং করছি যে এমনও হতে পারে পাওয়ার প্লে তেও নামা লাগতে পারে, ১৫-১৬ ওভার পর নামা লাগতে পারে আবার প্রথম ওভারেও নামা লাগতে পারে। তো আমার দিক থেকে প্রথমে ম্যাচটা কি ডিমান্ড করে সেই অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। তো আজকে সেরকম ডিমান্ড ছিল ডে শুরুতে দুটো উইকেট হারিয়েছি একটু জুটি দরকার ছিল। আমি ও জাকের ভাইয়ের একটা জুটি ছিল। যেরকম ডিমান্ড ছিল সেরকম এক্সিকিউট করার চেষ্টা করেছি, এর বেশি কিছু চিন্তা করি নাই। অবশ্যই টার্গেট ছিল যেত বেশি রান করা যায়। নরমালি খুব ভালো উইকেট। শুরুর দিকে যদি দু-একটা উইকেট না যেত উ্পর থেকে যদি ৭০-৮০ হতো তাহলে হয়তোবা রান ২০০’র কাছাকাছি থাকতো।' লিটন ও শান্ত- দুই ঊর্ধতনের চুপসে যাওয়া নিয়ে হৃদয়ের অভিমত, 'ঠিক আছে দু একটা ইনিংস এদিক সেদিক হতেই পারে। আবার যেদিন ভালো শুরু করবে সেদিন দেখবেন তারাই ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে। টপঅর্ডারে ব্যাটিং করে তারাই দেখবেন ম্যাচে একদিন ১০০ বা আমাদের জন্য কন্ট্রিবিউট করবে।'
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কতটা ভাল ভাবে নেয়া সম্ভব এমন প্রশ্নে হৃদয়ের জবাব, ‘আমার কাছে তো সঠিক ভাবেই মনে হচ্ছে। কারণ বিশ্বকাপের আগে তো আর ম্যাচ নেই। যেহেতু বিশ্বকাপের এটাই ম্যাচ এখানেই আমাদের যতটুকু পারবো ব্যাটাররা সবাই সবার পরিকল্পনা আছে সেই অনুযায়ী এক্সিকিউশন করার চেষ্টা করছে। আমার মনে হয় যে খেলাটা এত সহজ হচ্ছে না। ওরাও ভালো দল, ওদেরও কয়েকটা ভালো ক্রিকেটার আছে। জিম্বাবুয়ে বলে ছোট করে দেখার কিছু নেই। আন্তর্জাতিকে প্রতিটা দলই শক্ত, আন্তর্জজাতিক ও লোকাল ক্রিকেটের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। তো আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে যে খুব ভালো প্রস্তুতি হচ্ছে কিছু জায়গায় উন্নতির জায়গা আছে। সেটা প্রতি ম্যাচেই থাকে। তো যে জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে ওই জায়গাগুলোতে প্রতিদিন যত উন্নতি করা যায় তা আমাদের জন্য ভালো।' আবাহনী সতীর্থ জাকের আলি অনিকের সঙ্গে জুটির ব্যপারে বলেছেন, 'ভালো। জুটি, একটা দুটা বড় জুটি হলে দলের মোমেন্টাম বা চেহারাই পরিবর্তন হয়ে যায়। এক্স্রিকিউশন মোটামুটি হয়েছে আরও কিছু জায়গা ছিল যে জায়গাগুলোয় আরও একটু ভালো হতে পারতো।'
আত্মহত্যার মত আউটে না থেকেও আলোচনায় লিটন। সতীর্থ হয়ে তার ঢাল হতে হয়েছে হৃদয়কে, 'দেখেন কেউ তো ইচ্ছা করে উইকেট দিয়ে আসে না। লিটন ভাই বা যারা টপঅর্ডাররা খেলে তারা চেষ্টা করছে নিজের সেরাটা দিয়ে। একটা ক্রিকেটার সবসময় ভালো খেলবেন না। লিটন ভাই.. উনি কি ক্রিকেটার বা উনার স্ট্রাইকরেট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে শুনতেছি। আসলে চেক করে দেখলে দেখা যাবে এখনও উনার স্ট্রাইকরেট এখনও বাংলাদেশের দুই তিনজনের ভেতরে আছে। আসলে বিশ্বের যত বড় ব্যাটারই হোক সে প্রতিটা ম্যাচ বা সিরিজে ভালা করবে না। আশা করছি যে যারা ভালো করছেন না তারা খুব দ্রুত ফিরবেন। একটা ইনিংস ভালো করলেই ফিরবেন। এমনও হতে পারে খুব বড় খেলায় দেখা যাচ্ছে খেলার সিনারিও বদলে দেবেন। আমাদের সবার বিশ্বাস রাখতে হবে, বিশ্বাসটা হারালে হবে না।'
আবাহনীর হাতে লিগ শিরোপা তুলে দেয়ার অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ভাল করা ক্রিকেটারদের নাম বলতে গিয়েও হৃদয়ের নাম না বলে বলেছিলেন, ‘ বললে খারাপ হয়ে যাবে!’ বোর্ড প্রধানের এই সাবধানতা কিংবা আবাহনীতে খেলে হৃদয়ের প্রস্তুতি, কারণ যাই হোক না কেন বিশ্বকাপের বিমানে চড়ার আগে একমাত্র হৃদয়কে দেখেই মনে হচ্ছে ব্যাটিং করাটা সহজ। লিটন-শান্তদের ব্যাটিং দেখলে মনে হতে পারে, ব্যাটিং করা বা রান করাটাই বিশ্বের কঠিনতম কাজ, অথচ বিশ্বকাপে তারাই ভরসা।
