পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০৬:৩১ পিএম

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চলতি বোরো মৌসুমে কাটা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে প্রধান ফসল ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজি ক্ষেত। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। ফসল বাঁচাতে অতিরিক্ত মজুরি খরচ করেও রক্ষা হচ্ছে না তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত ১০ দিন ধরে মৌকরা ইউপি গোমকোট, মৌকরা, তিলিপ, পৌচির, বাংগড্ডা ইউপির বাংগড্ডা, রামারবাগ, পরিকোট, শ্যামপুর, গান্দাচী, পেরিয়া ইউপি, রায়কোট উত্তর, রায়কোট দক্ষিণ, ঢালুয়া, হেসাখাল, মক্রবপুর, বক্সগঞ্জ, বটতলী, দৌলখাঁড়, আদ্রা উত্তর ও জোড্ডা পূর্ব ইউপিসহ পুরো উপজেলা ফসলি মাঠে চলতি মৌসুমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে হরদম। এবারের বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকও অনেক খুশি। কিন্তু গত রবিবার দুপুর থেকে ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠে থাকা কাটা ধান পানিতে ডুবে যায়। এতে আগের তুলনায় খরচও দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। যার ফলে হতাশার ছাপ পড়েছে কৃষকের চোখে-মুখে।

এ বিষয়ে গোমকোট গ্রামের কৃষক আব্দুল মন্নান বলেন, এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। জমিনে গেলে মন ভরে যায়। ৬০ শতক জমির ধান কেটে শুকানোর জন্য মাঠে রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি এলে ধানগুলো ডুবে যায়। আগে প্রতি কানি ধান ১৪ হাজার টাকা করে কাটিয়েছি। এখন ১৮ হাজার টাকা করে প্রতি কানিতে খরচ হচ্ছে। লাভের বদলে এখন লোকসান গুনতে হবে।

মাহিনী গ্রামের ইয়াছিন বলেন, ৩০ শতক জমির কাটা ধান পানিতে ডুবে গেছে। ছোট ছোট আঠি বেঁধে ধানগুলো বাড়িতে আনতে হচ্ছে। আনেক কষ্ট। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। খড়গুলো নষ্ট হয়ে যাবে। খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লায় এবার প্রায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টির আগেই ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছিলাম। অনেক বাড়িতে ধান শুকানোর জায়গা না থাকায় মাঠে শুকাতে গিয়ে ধান ভিজে গেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত