মনিরুস সাব্বিনের কবিতা

আপডেট : ০৯ মে ২০২৪, ১২:০১ এএম

কদম ফুল

কদম, কই পাইছো সৌরভ এতো?

চলে যাও দূর-দূরান্তে

রাত্রির বাতাস করে মথিত।

 

এতদিন ভুল জানতাম

এই হেমন্তে টের পেলাম

হাসনাহেনা তোমার কাছে পরাজিত।

 

জানি, সকল ফুলের মতো

তোমারও অপ্রিয় তুলনা।

তুলনার কথা আর বলো না!

 

নিটোল ফুল, কই পাইছো সৌরভ এতো, বলো?

আমার গায়ে বসে গেছে ময়লাগন্ধ,

আমাকেও নিয়ে চলো।

ফাটল

 

এখন আর তোমাকে আমার প্রয়োজন নাই।

আর আমাকে তোমার কোনো দিনই প্রয়োজন ছিল না।

 

সত্য যথেষ্ট নয়, ছিল না কোনো দিন।

পরস্পরের কাছে আমাদের নাই কোনো ঋণ।

 

এখন আর আমাকে তোমার প্রয়োজন নাই।

আর তোমাকে আমার কোনো দিনই প্রয়োজন ছিল না।

 

সত্য যথেষ্ট নয়, ছিল না কোনো দিন।

পরস্পরের কাছে আমাদের নাই কোনো ঋণ।

ক্রোধ

 

প্রেক্ষাপটবিহীন জীবন

     দৃষ্টিহীন বধির।

কেউ কষ্টের কারণ হলে

       ইচ্ছে করে

ফিরিয়ে দিতে হাজার গুণে!

 

নরকমুখী ক্রোধে

সৌন্দর্য অবলুপ্ত হলে

মৌনতা গ্রাস করে।

একটা দুস্থ দেহের ভিতর

আটকা পড়ে পান্ডুর মন।

ইথারে লিখিত কবিতা

 

অনুভূতি উপলব্ধিতে বদলায় না

অভিভূতি রং ও সুবাস ছড়ায়

                       ধরে রাখা যায় না।

ফলে কাব্য লিখিত হয় বাতাসের গায়

বাতাস তারে নিয়ে যায় দূরে দূরে

যন্ত্রে বাধা গান নয় তাই মিশে যায় ইথারে।

স্মৃতি বিযুক্ত হলে

উৎসারিত প্রাণের উৎসমূলে

                                    ভাষা ফেরে না।

অভিভূতির ডজন রং যে চিত্রালি রচে

তার ভেতর ভাষা গীত হয়ে অন্তর্হিত হলে

ক্ষণিকের বর্ণিল নাচন

                             কলমে ধরে না।

 অদৃশ্য মানব

 

আমাকে অভিনন্দন!

শৈশবের ইচ্ছা হয়েছে পূরণ।

মাছওয়ালাকে দাম জিজ্ঞেস করি

        কথা বলে না।

গাছওয়ালাকে নাম জিজ্ঞেস করি

        উত্তর দেয় না।

ভরা বাজারে বন্ধু আমার

      একান্ত ব্যাপার

প্রচার করে ঢোল পিটিয়ে

যদিও আমি উপস্থিত সেখানে!

           চমৎকার

 

পূরণ হয়েছে ইচ্ছা পিচ্চিবেলার

আমি অদৃশ্য হতে পেরেছি!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত