জেলেদের চাল ইউপি চেয়ারম্যানের পেটে

আপডেট : ১১ মে ২০২৪, ১২:৫৩ এএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চালা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদের বিরুদ্ধে। বিতরণ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারের সঙ্গে আঁতাত করে জেলেদের ভুয়া টিপসই এবং এক নাম একাধিকবার ব্যবহার করে চাল আত্মসাতের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চালা ইউনিয়নে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে দুই ধাপে মোট ১০০ জনের জন্য ৮০ কেজি করে ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত চাল মৎস্য দপ্তরকে অবহিত করে এবং ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিতরণ করার কথা থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান তা করেননি।

দুই ধাপের তালিকার ১০০ জনের মধ্যে ৪৪ জনের সঙ্গে কথা বলে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, কোনো কোনো জেলের নাম দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করা হয়েছে। চাল বিতরণের মাস্টাররোলে ভুয়া টিপসই ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া তালিকার অনেকে চাল না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।

দিয়াবাড়ী গ্রামের দুলাল রাজবংশীর ছেলে স্বপন রাজবংশীর নাম তালিকায় মোট তিন বার উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসেবে তার মোট ২৪০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু স্বপন রাজবংশীর স্ত্রী ভারতী রাজবংশী বলেন, ‘আমরা তিন থেকে চার মাস আগে এক বার ৩০ কেজির এক বস্তা চাল পেয়েছি। আর কোনো চাল পাইনি।’

সট্টি গ্রামের আবদুর রহিমের নাম তালিকায় দুইবার এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমি জীবনেও জেলে কার্ডের কোনো চাল পাইনি।’

একই গ্রামের রহমান কাজী এবং বাবুপুর গ্রামের মনোরঞ্জন রাজবংশীও কোনো চাল পাননি।

বাবুপুর গ্রামের প্রফুল্ল রাজবংশী এবং কল্যাণপুর গ্রামের সুবল, পরিমল, ও ভবেশ রাজবংশীর নাম তালিকায় দুইবার থাকলেও তারা কেবল ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন।

এ ছাড়া দিয়াবাড়ী গ্রামের পবন রাজবংশী, পরি রাজবংশী, নিরঞ্জন রাজবংশী, সুজন রাজবংশী, সুরেশ রাজবংশী ও জিতেন রাজবংশী এবং কল্যাণপুর গ্রামের সুশান্ত রাজবংশী, সুরেশ রাজবংশী, গোবিন্দ রাজবংশী, শংকর রাজবংশী, পরেশ রাজবংশী ও রবি রাজবংশী তাদের বরাদ্দের ৮০ কেজির বদলে ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, ‘শেষের ধাপের ৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ না করে চেয়ারম্যান পুরোটাই আত্মসাৎ করেছেন।’

সব অভিযোগ অস্বীকার করে চালা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবদুল মজিদ বলেন, ‘কোনো চাল আত্মসাৎ করা হয়নি। বরাদ্দের চেয়ে পাওয়ার যোগ্য জেলে বেশি থাকায় একজনের চাল কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।’

চাল বিতরণ পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসান মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি বিতরণের সময় ছিলাম না। পরে চাল বিতরণ করা হয়েছে মর্মে জানালে আমি তালিকায় স্বাক্ষর করে দিয়েছি।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইকরাম বলেন, ‘চাল বিতরণের কথা আমাদের জানানোর কথা থাকলেও তিনি জানাননি। আমরা কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মধ্যে পাঁচজন চাল পাননি বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের কাছে রিপোর্ট দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তাকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আমিও তদন্ত করছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত