মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গতকাল প্রায় একই সময়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্পে হামলা হয়। উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শিবালয়ে সংঘর্ষের পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। জানা গেছে, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খানের (আনারস প্রতীক) দুই কর্মী জনি ও সিয়াম গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোয়ালী ডাক্তারখানা এলাকায় পোস্টার টানাতে যায়। তখন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুর রহিম খানের (দোয়াত কলম প্রতীক) সমর্থকরা মারধর করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজন উপস্থিত হলে কথাকাটাকাটির পর সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় রেজাউর রহমান খানের ছেলে রনি ও অন্যরা সেখানে গুলিবর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রহিম খানের লোকজন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বোয়ালী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে অবস্থান নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ ও পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
সংঘর্ষে আহত রেজাউর রহমানের কর্মী সিয়াম ও জনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অবরোধের ঘটনায় মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়লে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহান।
অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বেজগাঁও ইউনিয়নের ছত্রিশ গ্রামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএম শোয়েবের নির্বাচনী ক্যাম্পে ৮-১০ জন হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষ রশিদ শিকদারের সমর্থকের হামলায় গুরুতর আহত হন রকি শেখ (৩২) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় তার বাবা বিল্লাল শেখ বাদী হয়ে লৌহজং থানায় অভিযোগ করেন।
আহত রকি শেখ বলেন, ‘সিহাদ, সামির, জয় দীর্ঘদিন ধরে আমাকে রশিদ শিকদারের নির্বাচন করার জন্য বলত। কিন্তু আমি বিএম শোয়েবের নির্বাচন করি, তাই তাদের বলে দিয়েছি আমি পারব না। আমার নেতৃত্বে এলাকায় বেশ কিছু ছেলে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। আসরের নামাজের সময় ক্যাম্পে বসেছিলাম। নামাজ শেষ হলে প্রচারে বের হব। এরই মধ্যে হঠাৎ ওরা ৮-১০ জন এসে আমার ওপর হামলা করে। চাপাতি, ছুরি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।’
এ বিষয়ে লৌহজং থানার এসআই রোজিনা খাতুন বলেন, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় আহত রকি থানায় আসছিল। পরে আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছি চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
বিজয়ী চেয়ারম্যানের কর্মীকে মারধর, পরাজিত প্রার্থী গ্রেপ্তার : নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম রমজানের এক সমর্থককে তুলে নিয়ে মারধরের মামলায় পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হোসেন মিলনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে নাটোর সদর উপজেলার তালতলা হাফরাস্তা এলাকায় মারধরের ওই ঘটনা ঘটে। নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম রমজানের কাপ-পিরিচ মার্কার পক্ষে কাজ করেন তার সমর্থক রুবেল হোসেন। ভোটগ্রহণের পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে পরাজিত আনারস মার্কার প্রার্থী জামিল হোসেন মিলন ও তার সমর্থকরা রুবেলকে তুলে নিয়ে যান। পরে মিলনের চেম্বারে নিয়ে বেধরক মারপিট করেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পরাজিত প্রার্থী মিলনের গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরাজিত প্রার্থী মিলনকেও গ্রেপ্তার করে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মিলনকে আদালতে তোলা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করে।
সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামিল হোসেন মিলনকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ঘটনাস্থল থেকে অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নাটোর প্রতিনিধি, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা ও লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিরি পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি
